চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
১২ কিমি নতুন সড়ক
চৌহালীতে যমুনার দুর্গম চরে উন্নয়নের ছোঁয়া

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর চরাঞ্চল ঘোরজান ইউনিয়নের কড়ইতলা থেকে স্থল ইউনিয়নের নওহাটাবাজার হয়ে নৌঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। চরের ভেতরে সড়ক পথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছেন দুর্গম চরের বাসিন্দারা। পশ্চিম এলাকা বেতিল ও এনায়েতপুরের সঙ্গে সড়কপথের এ যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চৌহালী হতে পারে অপরূপ প্রকৃতিক নীলাভূমি।
যমুনায় ভাঙন নয়, বেড়িবাঁধ ও যমুনা চরের ভেতরে সড়কপথ দেখতে চান এলাকাবাসী। তারই ধারাবাহিকতায় চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের কড়াইতলা থেকে স্থল ইউনিয়নের নওহাটাঘাট পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়কপথ গড়ে তোলা সম্ভব করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডলের মাস্টারপ্লান প্রকল্পের মাধ্যমে। নদীর ভাঙনে অভিশপ্ত ও অনিশ্চয়তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় দিনের পর দিন।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রিমোট জনপদের অবহেলিত চৌহালীকে মাস্টারপ্লানে গড়ে তুলতে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়কপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ঘোরজানের কড়াইতলা থেকে স্থল ইউনিয়নের নওহাটাবাজার হয়ে খেয়াঘাট পর্যন্ত এ সড়ক পথ হয়েছে।
স্থল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন ও পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলে চৌহালীর ২ লাখ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। এ সড়ক পথ এবং দুই পাড়ে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ এলাকা হয়ে উঠবে পর্যটনের নতুন দিগন্ত এবং পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া বলেন, উপজেলায় দৃশ্যমান এ সড়কপথ পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছা. আজমেরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব এস এম এনামুল করিম, উপপরিচালক শেখ সিরাজুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আ. রহিম। এ রাস্তায় ১০টি সেতু নির্মাণের সুপারিশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। দুটি সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। দুটি মুজিব কেল্লার মধ্যে ঘোরজান ইউনিয়নে একটি ও স্থল ইউনিয়নে একটি। চরের ভেতর দিয়ে দৃশ্যমান সড়ক পথের নির্মাণকাজ হচ্ছে, এখন সহজেই খেয়া পার হয়ে স্বল্প সময়ে সিরাজগঞ্জের সঙ্গে চৌহালীর একটি সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে উঠবে। উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন সরকার বলেন, এ রাস্তা সচল হলে চৌহালীবাসীর বাঁচবে সময়, কমবে ভোগান্তি।
সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডল এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন উন্নয়ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাড়ে ৫ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ লাখ টাকার কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ রাস্তার কাজ সূম্পর্ণ করা হবে। এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নে একটি পরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ ও চরের ভেতর সড়ক পথ স্থাপনে সিরাজগঞ্জ, বেড়া-শাহজাদপুর ও চৌহালী-এনায়েতপুরের বাসিন্দাদের একটি বড় দাবি পূরণ হবে।
"







































