ক্রীড়া ডেস্ক

  ১৫ জুলাই, ২০২৬

নিরাপত্তাব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণের মাঝে আলোচনায় ফকল্যান্ড যুদ্ধ

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের পারদ চড়তে শুরু করেছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস মাথায় রেখে আটলান্টা পুলিশ স্টেডিয়াম ও পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।

২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। নিরাপত্তা বাড়ানোর মূল কারণ দেশ দুটির পুরোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় যা ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে হওয়া সংক্ষিপ্ত তবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ক্ষত এখনো দুই দেশের মানুষের মনে তাজা।

এবারের আসরে শেষ ১৬-তে মিশরকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং দিয়েগো ম্যারাডোনা-মেসিকে জড়িয়ে একটি বিতর্কিত গান গাইতে দেখা যায়। এ ছাড়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল দুই দেশের ফুটবল বৈরিতাকে চিরস্থায়ী রূপ দিয়েছে।

আটলান্টা পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক সেমিফাইনালকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্র ও স্টেডিয়ামের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইংলিশ সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর খোদ যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০টি ফুটবল-সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১০০ জনেরও বেশি সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। মাঠের উত্তাপ যেন সীমানা ছাড়িয়ে গ্যালারিতে সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেটিই এখন আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মাঠের উত্তেজনা কমাতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড দুজনের গলায় একই সুর শোনা গেছে। তারা একমত হয়েছেন যে, এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ এবং দিনশেষে মাঠের ফুটবলই কথা বলবে। ম্যাচটি ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ নয়’ হাইভোল্টেজ ম্যাচটির আগে আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন ভক্তদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবিকে মাঠের ফুটবলের সঙ্গে না মেশানোর অনুরোধ করেছেন তারা।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড নিয়ে হওয়া সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এই ঐতিহাসিক ক্ষতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ফুটবল ম্যাচে প্রায়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়