ক্রীড়া ডেস্ক

  ৯ ঘণ্টা আগে

পর্তুগালকে বিদায় করে শেষ আটে স্পেন

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তাই ট্রফির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিলেন সিআলসেভেন। কিন্তু নাটকীয় এক সমাপ্তিতে সেই স্বপ্নে ইতি টানল স্পেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট কাটে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য দেখানো স্পেন জয় পায় ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে। যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে দলটি। লুইস দে লা ফুয়েন্তে আগের ম্যাচের একাদশই অপরিবর্তিত রাখেন। দুই দলের মূল লড়াই ছিল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও পর্তুগাল ছিল গোছানো রক্ষণে এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায়।

প্রথম বড় সুযোগটি আসে মিকেল ওইয়ারজাবালের সামনে। প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূরপাল্লার শটে পরীক্ষা নেন তিনি দিয়োগো কস্তাকে। জবাবে ডান দিক দিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠে শট নেন জোয়াও ক্যানসেলো, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর দানি ওলমোর দারুণ পাস থেকে আরেকটি সোনালি সুযোগ পান ওইয়ারজাবাল। কিন্তু একেবারে ফাঁকা অবস্থান থেকেও শট বাইরে মেরে বসেন তিনি। খেলা যখন দুই প্রান্তে সমান তালে ছুটছে, তখনই নিজের সামর্থ্যরে জানান দেন দুই গোলরক্ষক। একদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ডান দিক থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমন।

অন্যদিকে কয়েক মিনিট পর অবিশ্বাস্য জোড়া সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা। দুই ডিফেন্ডারের নজর এড়িয়ে নুনো মেন্ডেসকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন লামিন ইয়ামাল। কস্তা সেটি ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে আলেক্স বায়েনার বাঁকানো শটও দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকে স্পেনের দখল আরো বাড়লেও উনাই সিমনকেও সমান ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। জোয়াও ফেলিক্সের হেড দারুণভাবে ঠেকানোর পর মুহূর্তের ব্যবধানে রোনালদোর কাছের পোস্টে নেওয়া শটও রুখে দেন তিনি। ওলমো ও ইয়ামাল একবার করে জালেও বল পাঠিয়েছিলেন, তবে দুটিই অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। বিরতির ঠিক আগে কর্নার থেকে নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। অল্পের জন্য পিছিয়ে পড়া থেকে বেঁচে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পর্তুগাল। তবে খুব দ্রুতই আবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনে স্পেন। এ অর্ধেই লামিন ইয়ামালকে থামাতে গিয়ে চোট পান নুনো মেন্দেস। পরে তাকে বদলি করে মাঠে নামানো হয় নেলসন সেমেদোকে। স্পেন আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে। পেদ্রির শট অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর বায়েনার শট এবং ইয়ামালের ফ্রিকিক দুটিই কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

শেষ দিকে পর্তুগালকে প্রায় নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে স্পেন। দানি ওলমোর শট রুবেন দিয়াস ব্লক করেন। আর ফেরান তোরেসের বিপজ্জনক ক্রসে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার পা ছোঁয়াতে পারেননি। তবে যোগ করা সময়ে আর ভুল করেনি লা রোহা। ডান দিক থেকে ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাসে ডি-বক্সে বল পান সদ্য বদলি নামা মিকেল মেরিনো। কাছের পোস্ট লক্ষ করে নেওয়া তার শট জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। বাকি কয়েক মিনিট সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষণ সামলে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে স্পেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়