ক্রীড়া ডেস্ক
সাবেক পরাশক্তিদের পতন
বিশ্বকাপে নতুন সমীকরণ

বিশ্বকাপ দিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের চেনা সমীকরণ। একসময়ের পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে ওঠে আসছে নতুন দেশ। বিশ্বকাপে গড়ে উঠছে নতুন সমীকরণ।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় করে দিয়ে সবচেয়ে বড় অঘটনের একটির জন্ম দিয়েছে প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ফুটবল ভক্তরা বুঝতে পারছেন, জানাশোনা থেকে করা হিসাব আর মিলছে না।
বিশ্বকাপের নিয়মিত দলগুলোর একটি ও দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের পথচলা থেমে গেছে শেষ বত্রিশে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও উরুগুয়ে সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৩টি ফাইনাল খেলেছে। তাদের দ্রুত বিদায়ে ফুটবল শক্তিতে পালাবদলের ব্যাপারটি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, ছয়বার খেলেছে ফাইনালে। তারা টানা তিনবার থমকে গেছে বাছাই পর্বেই। ২০০৬ সালে সবশেষ শিরোপা জেতা ইতালি, ২০১৪ সালে সবশেষ শিরোপা জার্মানি ও ২০১০ সালে শিরোপা স্পেনের একটা জায়গায় দারুণ মিল। বিশ্বকাপ জয়ের পর এই তিন দলের কেউই এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে কোনো জয় পায়নি!
অন্য দিকে উত্তর আমেরিকার দেশ- মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, ও কানাডা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। সেখানে তাদের সঙ্গী প্যারাগুয়ে। আলজেরিয়া, মিসর, ঘানার মতো দেশগুলোর সামনে হাতছানি শেষ ষোলোয় যাওয়ার। এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্ব আসরে খেলতে এসে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের গ্রুপ পড়েও কোনো ম্যাচ না হেরে জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হারের পর জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান তাদের ফুটবলের ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
‘পরপর তৃতীয়বার আগেভাগে বিদায়ে এটা বলা ধৃষ্টতা হবে যে, আমরা বিশ্বের সেরা দলের একটি। আসলে আমরা তা নই।’
একই পরিস্থিতি ইতালিরও। এক সময়ে ফুটবলের এই মহাশক্তি সাফল্যের পথে ফিরতে নিজেদের ফেডারেশনের আমূল পরিবর্তন এনেছে। জার্মানির মতোই তাদের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে প্রতিভা বিকাশ, সব জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন। ইতালির নতুন ফুটবলপ্রধান জিওভান্নি মালাগো প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নতুন শুরুর দিকে তাকিয়ে আছেন।
‘আমাদের অতীত যেন নস্টালজিয়া বা বোঝার উৎসে পরিণত না হয়। আমাদের এটাকে নতুন মৌসুমের দিকে তাকানোর জন্য অনুপ্রেরণায় পরিণত করতে হবে- যা হবে সাহসী, জয়ী, বিনয়ী কিন্তু একইসঙ্গে উচ্চাকাঙ্ক্ষী।’
‘এখন আমাদের পরিবর্তন, নতুনত্ব ও মানসিকতায় পুরোপুরি বদল আনতে হবে। আমরা ব্যর্থ হয়েছি একসঙ্গে এবং আমরা জিতবও একসঙ্গে।’
একসময়ের পরাশক্তি যখন কক্ষপথে ফেরার পথ খুঁজছে নতুন শক্তি হিসেবে এগিয়ে আসছে মরক্কোর মতো দেশ। ২০২২ আসরে সেমিফাইনালে খেলা আশরাফ হাকিমিরা এবারও ছন্দে আছে।
"









































