দেশ পরিচিতি
কিরগিজস্তান

মধ্য এশিয়ার পূর্বভাগের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র কিরগিজস্তান। উত্তরে কাজাখস্তান, পূর্বে চীন, দক্ষিণে চীন ও তাজিকিস্তান এবং পশ্চিমে উজবেকিস্তান। কিরগিজরা একটি মুসলিমপ্রধান তুর্কি জাতি, যারা কিরগিজ নামের একটি তুর্কি ভাষায় কথা বলে। উনিশ শতকের শেষের দিকে কিরগিজস্তান রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। ১৯২৪ সালে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পায়। ১৯৩৬ সালে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি তখন কিরগিজিয়া নামেও পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯৩ সালে নতুন সংবিধান পাস করে। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। অর্থনৈতিকভাবে খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। মধ্য এশিয়ার দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরেনি। সড়কগুলো খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে সর্পিলাকারে উঠে নেমে গেছে। প্রায়ই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় শীতকালে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণ দুঃসাধ্য। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে এখনো ঘোড়া ব্যবহৃত হয়।
পুরো নাম : কিরগিজ প্রজাতন্ত্র।
রাজধানী ও সর্ববৃহৎ শহর : বিশকেক। রাষ্ট্রভাষা : কিরগিজ (জাতীয়), রুশ (দাপ্তরিক)। জাতিগোষ্ঠী : কিরগিজ (৭৩%), উজবেক (১৪.৬%), রুশ (৬%), চীনা (১.১%), অন্যান্য (৫.৩%)। ধর্ম : ইসলাম। রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি : ইউনিটারি পার্লামেন্টারি রিপাবলিক। আইনসভা : সর্বোচ্চ পরিষদ। স্বাধীনতা : ৩১ আগস্ট ১৯৯১ সাল।
আয়তন : ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫১ বর্গকিমি। জনসংখ্যা : ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৪৮০ জন। মুদ্রা : সোম (কেজিএস)। জাতিসংঘে যোগদান : ১৯৯২ সাল।
গ্রন্থনা : শওকত হোসেন
"




































