প্রিয় ডিমফ্রাই

শাম্মী তুলতুল

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

তুলি পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। ভীষণ দুষ্টু সে। স্কুলে বা কোচিংয়ে দেরিতে আসার যত বাহানা। আজও তার নানা বাহানা। স্যার গেলেন চরম খেপে।

তুলি ক্লাসে ঢুকতেই স্যার বলেন, আজকেও তুমি দেরি করে এসেছো?

কী করি স্যার, দেরি হয়েই গেল। একটু সমস্যা ছিল।

প্রতিদিন সমস্যা থাকে। দাঁড়াও তোমার মাকে খবরটা জানাতে হবে। আজকের সমস্যা আমার শোনা চাই। নইলে পুরো ঘণ্টা এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখব।

স্যারের কথা শুনে কোচিং সেন্টারের সব ছাত্র হেসে উঠল।

তুলি মাথা নিচু করে রইল। স্যার চেয়ার ছেড়ে তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। আজ আমার জানা চাই।

স্যার, আমার না সব সময় দুপুরে খাবার টেবিলে ডিম চাই।

তাতে কী হয়েছে। আজকে কি মা ডিম দেননি তাই দেরি করেছো?

না স্যার তা নয়, এই জন্য নয়।

তাহলে কী জন্য? মনটা খুবই খারাপ।

এতে খারাপ হওয়ার কী আছে, ডিম তো পেয়েছোই।

পেলে কী আর মন খারাপ হয়?

দেখো এত সময় নেই তোমার লম্বা কাহিনি শোনার। বলো কী ঘটল? যত কম সময়ে।

মুখ হাঁ করতেই মুখ থেকে ডিমটা পড়ে গেল।

সেটা এমন কী ঘটল? সচরাচর খাবার মাটিতে পড়ে গেলে ফেলে দেওয়া হয়। এখানেও তাই করবে। আরেকটি খাবে।

কিন্তু স্যার, আমি তো ওমলেট খাই না।

কী খাও? ডিমফ্রাই খাই। ডিমফ্রাই করতে গেলে প্রথমে ডিমকে সেদ্ধ করতে হয়। এতে অনেক সময় লাগে, প্রথমে পানিতে দিতে হয়। তারপর জলদি ফোটাতে একটু লবণের ছিটা...।

ওহ! থামো পুরো রান্নার রেসিপি শুনতে চাইনি আমি।

ডিম খাওয়ার সঙ্গে তোমার দেরিতে আসার কী সম্পর্ক জানতে পারি? স্যার তুলিকে বলছেন আর বারবার মুখের ঘাম মুছে বিরক্ত হচ্ছেন।

স্যার, আমার পোষা টিয়া পাখিটি কোলে বসা ছিল, ডিমটা তার মুখে গিয়েই পড়ল।

কী?

ওই টিয়া পাখি তো আমার বারোটা বাজিয়ে দিল। সে এদিক-সেদিক ছুটতে লাগল। আমি তার পেছন পেছন ছুটতে লাগলাম। আরেকটি ডিমফ্রাই করতে গেলে কোচিং ক্লাসের সময় চলে যাবে। তাই ওটা নিতেই দৌড়াদৌড়ি করা। তুলির এমন কথা শুনে স্যার একটু চমকে গেলেন? বলেন, টিয়ারাও কি আজকাল ডিমফ্রাই খায়?

জি স্যার, আজকাল আমাদের দেখে তাদেরও খাবার রুচি পরিবর্তন হয়েছে।

স্যার চশমাটা চোখে দিয়ে মনের সঙ্গে লড়াই শুরু করলেন : বিশ্বাস করবেন কি করবেন না এই ভেবে।

 

"