আহমাদ বিন ইব্রাহিম
এতিমের মর্যাদা

ইসলামে ইয়াতীমের অনেক মর্যাদা রয়েছে। তিনি এতিমকে সম্মানিত স্থানে আশ্রয় দেন। তার জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করেন, আর পরে কোন ধরনের কষ্টে নিপতিত করেন না, আল্লাহ তায়ালার শান দেখুন। জন্ম গ্রহণের পূর্বেই নবী (সা.) এর পিতার ইন্তিকাল হয়ে গিয়েছিলো। এরপর যখন তার বয়স ছয় বছরে পদার্পন হয় তখন তার “মাতারও ইন্তিকাল হয়ে যায়। এরপর তিনি দাদা আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্ব¡াবধানে এলেন। এর দুই বছর পর রাসুল (সা.) এর আট বছর বয়সে দাদা আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তিকাল হয়ে যায়। এরপর তিনি চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে এলেন। স্বীয় যৌবনের কিছুদিন পর যখন নবুওয়াত লাভের ঘোষণা করলেন, তখন চাচার ইন্তিকাল হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা নবী (সা.) কে এতিম করেই সৃষ্টি করেছেন। তারপরও আল্লাহ তায়ালা তাকে আশ্রয়স্থল দান করেছেন।আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আমি কি আপনাকে এতিম রূপে পাইনি। এরপর আমি কী আপনাকে আশ্রয়স্থল দান করিনি? এ আয়াতের হাকীকত হলো-আপনি ইয়াতীম ছিলেনআমি আপনাকে আশ্রয়স্থল দান করেছি। আপনি আশ্রয়হীন ছিলেন আমি আপনাকে আশ্রয় দান করেছি। আপনি দরিদ্র কুঠিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমি আপনাকে মক্কা বিজেতা বানিয়ে দিয়েছি। আপনার যখন জন্ম হয়েছিলো তখন ঘরে বাতি জ্বালানোর জন্য তৈল ছিলো না, আর আমি আপনাকে এমন বানিয়ে দিয়েছি যে, আপনার বরকতের ওসিলায় সমগ্র বিশ্বজগতে হিদায়াতের নূর ছড়িয়ে পড়েছে। এটা হলো স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এতিমদের মর্যাদা দিয়েছেন।
নবী মুহাম্মাদ (সা.) এতিমদেরকে অনেক ভালোবাসতেন। হদীস শরীফে বর্ণিত আছে, ঈদের দিন নবী (সা.) ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য নিজ ঘর থেকে বের হলেন। ছেলেরা পথে গলিতে খেলাধুলা করছিলো, তারা গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করেছিলো। ঐ ছেলেদের চোখে ছিলো সুরমা, শরীরে তেল দেওয়া ছিলো। তাদের থেকে কিছুটা দূরে একটা শিশু একাকী বসেছিলো, সে ছিল দুঃখে আক্রান্ত। চোখে মুখে উদাসী ভাব। নবী সা. যখন সেই বাচ্চাটিকে দেখলেন তখন স্তব্ধ হয়ে গেলেন, জিজেস করলেন, বাবু! কী হয়েছে? এতো বিমর্ষ হয়ে বসে আছো কেন? শিশুটি উত্তর দিলো, হে আল্লাহর নবী (সা.)! এ মদীনা শহরে আমি এক এতিম। আমার পিতা নেই, যিনি আমার জন্য পোশাক কিনে আনবেন, আমাকে গোসল করে কাপড় পরিয়ে দিবেন, ঐ সব ছেলেরা মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে, আর আমি বসে বসে শুধু পিতার কথাই ভাবছি। হজুর (সা.) বললেন, এই কথায় কি তুমি খুশি হবে না -যদি আমি তোমার পিতা হয়ে যাই, আর আয়েশা তোমার মা হয়ে যায়? এ কথার পরপরই শিশুটির চোখে আমোদ দেখা গেলো। সে খুশি হয়ে উঠলো, এরপর শিশুটিকে তিনি নিজ ঘরে নিয়ে গেলেন। তারপর আয়েশা রা. তাকে গোসল করাতে থাকলেন, যখন শিশুটি গোসল করে নিলো, তখন তাকে পরিচ্ছন্ন ধৌত কাপড় পরিধান করালেন। মাথায় তেল মাখিয়ে দিলেন, এরপর তার চুল আচড়ে দিলেন, সুগন্ধি মেখে দিলেন, চোখে সুরমা লাগিয়ে দিলেন, তখন শিশুটি আনন্দিত হলো। এখন শিশুটি নবী (সা.) এর সঙ্গে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল, এরপর নবী (সা.) তাকে কাঁদে করে ঈদগাহে নিয়ে গেলেন। আর যে শিশুগুলো খেলাধুলায় মত্ব ছিলো তারা তাকে দেখে বিস্মিত হয়ে গেলো। তখন ঐ শিশুটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে ঘোষণা করলো, নবী (সা.) আমাকে তার সন্তান বানিয়ে দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) আমার মা হয়ে গিয়েছেন। নবী (সাঃ)-শিশুটিকে নিয়ে ঈদগাহে এলেন, মিম্বারের উপর উপবিষ্ট হলেন। তখন শিশুটি নিচে বসতে যাচ্ছিলো, তখন নবী মুহম্মাদ (সা.) বললেন আজ তুমি নিচে বসবেনা বরং আমার সঙ্গে মিম্বারের উপরেই বসবে। নবী (সা.) শিশুটিকে নিজের সঙ্গে বসালেন, এবং তার মাথায় হাত রেখে ইরশাদ করলেন,
”হে লোকসকল! যে ব্যক্তি ইয়াতীমের মাথায় স্নেহের হাত বুলাবে, সেই হাতের নিচে যে পরিমাণ চুল হবে আল্লাহ তায়ালা সে পরিমাণ নেকী তার আমলনামায় লিখে দেবেন’’।
কিন্তু আজ- এতিমদের হক আত্মসাৎ করা হয়, তাদেরকে গালি দেওয়া হয়। এরই নাম মনুষত্ব!!! আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও নবী (সা.) এর সেই উত্তম চরিত্র দান করুন। আমাদেরকেও এতিমদের তত্ত্বাবানকারী বানিয়ে দিন, (আমীন) ।
লেখক : শিক্ষার্থী
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
"









































