আলেমা হাফসা আবির

  ৮ ঘণ্টা আগে

চেহারা বিকৃতি পাপের কাজ

মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান। তার কাজ হলো- আদম সন্তানকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে রাখা। অলসতা, উদাসীনতা ও পাপাচারের সাগরে ডুবিয়ে রাখা। সে মানুষের মনে সর্বদা পাপের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। পাপকে এমন আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে যে মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন্ড, বিলাসিতা ও স্মার্টনেসের নামে মানুষের মধ্যে উদ্ভট ইচ্ছা জাগায়, যারা তার ফাঁদে পা দেয়, তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। কারণ শয়তানের এই ফাঁদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ আগেই তার বান্দাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। ‘আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অভিসম্পাত করেছেন এবং সে (শয়তান) বলেছে, আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে (নিজের দলে) গ্রহণ করবই। এবং তাদের পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবেই এবং তাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয়ই সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সূরা নিসা : আয়াত ১১৮-১১৯)

উপরোক্ত আয়াতে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষের যে কয়টি কাজে লিপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করা। বিভিন্ন কৃত্রিম উপায়ে চেহারা বা শরীরের সৃষ্টিগত সুন্দররূপকে পরিবর্তন করে ফেলা, যা মূলত পৌত্তলিকরা শয়তানের পূজা করতে গিয়ে করত। বর্তমান যুগে এই পৌত্তলিকতাকে এমন রূপ দেওয়া হয়েছে যে অনেকে ফ্যাশনের উদ্দেশে বা শখের বসে করে।

অনেকের মনে হতে পারে, মানুষ তার শরীরের মালিক, তার শরীর সে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিকৃত করতে পারে, সাজাতে পারে, এটা একান্তই তার অধিকার। কিন্তু ইসলাম বলছে, মানুষ চাইলে তার শরীরে বিকৃতি ঘটাতে পারে না। এটা শয়তানের কাজ। এর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে। তাদের ওপর আল্লাহ ও তার রাসুলের অভিসম্পাত রয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ওই সব নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অঙ্কন করে, নিজ শরীরে উল্কি অঙ্কন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু-চুল উপড়িয়ে ফেলে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং আল্লাহ?র সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে।’ -সহিহ বোখারি: ৪৮৮৬

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যে নারী উল্কি আঁকে, দাঁতে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং যে মুখের চুল তুলে ফেলে আর এভাবে আল্লাহ?র সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে, তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।’ -সুনানে নাসায়ি: ৫২৫৩

হ্যাঁ, যদি বিলাসিতার উদ্দেশ্যে না হয়ে কারো শারীরিক অসুস্থতা ও দুর্বলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুচিকিৎসা থাকে, তা গ্রহণে ইসলামের আপত্তি নেই। তবে ইসলামি বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে, ফ্যাশনের নামে পৌত্তলিকতার অনুসরণ ইসলাম সমর্থন করে না।

মহান আল্লাহ সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়