নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২১ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এসব কথা জানান।

সাক্ষাতের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এ অবস্থায় আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। এ অর্জনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বল্পসময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন গিলবার্ট এফ হোংবো। বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরো বলেন, শ্রমখাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করে। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর : ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে হবে একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল-সংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ধাপে ধাপে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধাপে ধাপে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়াল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়