ক্রীড়া ডেস্ক

  ২১ জুলাই, ২০২৬

ইয়ামালকে মেসির ‘বিশ্বসেরা’ স্বীকৃতি

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে তখন উৎসবের লাল আবির। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন মেতে আছেন বিশ্বজয়ের উল্লাসে, ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ তখন দলছুট হয়ে এগিয়ে গেলেন মাঠের অন্য প্রান্তে। সেখানে বিষাদ আর একাকিত্ব সঙ্গী করে মাঠের বুকে বসেছিলেন ৩৯ বছরের এক মহাতারকা। বিজয়ী স্পেনের লামিন ইয়ামাল পরম শ্রদ্ধায় টেনে নিলেন বিজিত আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অদ্ভুত দৃশ্য- ছাব্বিশের ফাইনাল যেন মিলিয়ে দিল দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই জাদুকরকে, সম্পূর্ণ হলো বহু বছর আগের এক অলৌকিক বৃত্ত।

বিশ্বকাপের এ ফাইনালটি হয়তো দুজনের কারোর জন্যই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে সেরা ছিল না। কিন্তু ভাগ্য একজনের কপালে এঁকে দিল বিশ্বজয়ের তিলক, আর অন্যজনকে ডোবাল পরাজয়ের চরম গ্লানিতে। মেসিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করেছেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু বার্সেলোনার সেই চেনা ‘আলমা মেটার’ বা নাড়ির টান যে তিনি ভোলেননি, ম্যাচ শেষের এ একটি দৃশ্যই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। টুর্নামেন্ট চলাকালীনই ১৯ বছরে পা রাখা স্পেনের এ নতুন বিস্ময়-বালক ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের বাঁধভাঙা উল্লাসের মাঝখান থেকে ক্ষণিকের জন্য নিজেকে সরিয়ে নেন। তার চোখ তখন খুঁজছিল গ্যালারির আলো থেকে দূরে, মাঠের মেঝেতে একা বসে থাকা ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত মেসিকে। ইয়ামালকে এগিয়ে আসতে দেখে রোজারিও থেকে উঠে আসা এ ফুটবল ঈশ্বর নিজের সমস্ত কষ্ট আড়াল করে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর দুজনে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরলেন এক আবেগঘন আলিঙ্গনে। এ একটি আলিঙ্গন যেন টাইম মেশিনে ভর করে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ২০০৭ সালের সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্তে। ইউনিসেফের এক দাতব্য ক্যাম্পেইনের জন্য তোলা সেই আইকনিক ছবিতে যেখানে তরুণ মেসি পরম স্নেহে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন শিশু ইয়ামালকে! কে জানত, বিধাতার অলৌকিক তুলিতে আজ ১৯ বছর পর সেই ব্যবধান ঘুচে যাবে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে! খেলার ধরনের কারণে ইয়ামাল হয়তো ব্রাজিলের নেইমারকে নিজের আদর্শ মানেন, কিন্তু ফুটবলীয় মগজের দিক থেকে মেসির প্রতি তার শ্রদ্ধা আকাশচুম্বী। ইয়ামাল বরাবরই মেসিকে মান্য করেন ‘ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে।

মেসিও ফাইনালের আগে এ স্প্যানিশ তরুণের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘ও এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর সাফল্য মানেই বার্সেলোনার সাফল্য।’ ফাইনালে এক পক্ষকে হারতেই হতো, এটাই ফুটবলের নিষ্ঠুর নিয়ম। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এ ফাইনাল ট্রফি জয়ের চেয়েও বেশি মনে রাখবে দুই প্রজন্মের এ মেলবন্ধনকে। যেখানে পরাজয়ের বিষাদ ছাপিয়ে জয়ী হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর এক অবিচ্ছেদ্য ফুটবলীয় রূপকথা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়