reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১০ ঘণ্টা আগে

একান্ত সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম

উচ্চশিক্ষায় স্বায়ত্তশাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিতে হবে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং একাডেমিক নেতৃত্বে অভিজ্ঞ একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি একজন ফুলব্রাইট স্কলার। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। প্রায়োগিক অর্থনীতি বিষয়ে তার গবেষণা; বিশেষভাবে শ্রম অর্থনীতি, স্বাস্থ্য অর্থনীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিকেন্দ্রিক। গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ফোরামের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে ট্রেজারার পদে নির্বাচন করেন। তার নেতৃত্বে চার-পাঁচটি পদে জয়লাভ হয়। দেশের বর্তমান শিক্ষা, বাজেট, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে তিনি এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস এম নাসিম-

প্রতিদিনের সংবাদ : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন ও নীতির কোন দিকগুলো বর্তমান প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কয়েকটি দিক আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির ধারণা এখনো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য। জাতীয় ঐক্য ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তার গুরুত্ব বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো মতের বহুমাত্রিকতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা। তরুণদের উচিত ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। জাতীয়তাবাদকে তিনি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে জাতীয় স্বার্থ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশপ্রেমকে বাস্তব রূপ দিতে হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ : বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান সংকট কী? উত্তরণের উপায় কী?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৯টি সরকারি ও ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ৮৮১টি কলেজে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ১৮১টি ‘এ’ ক্যাটাগরির। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে কয়েকটি কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি। শিক্ষার সম্প্রসারণ ঘটলেও গুণগতমান একই হারে উন্নত হয়নি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি এবং গবেষণা তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে অনেক স্নাতক প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, পেটেন্ট ও উদ্ভাবনের সংখ্যাও এখনো সীমিত। প্রশাসনিক জটিলতা এবং অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করে। এসব সংকট মোকাবিলায় গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাত সহযোগিতা, আউটকাম-বেজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা সায়েন্স ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-সম্পর্কিত বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

প্রতিদিনের সংবাদ : গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে বলে আপনার মূল্যায়ন?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : গত দেড় দশকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অনেক ক্ষেত্রে একাডেমিক নেতৃত্বের পরিবর্তে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। একইসঙ্গে গবেষণার স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক চিন্তাচর্চা এবং মুক্ত বিতর্কের পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষামুখী সংস্কৃতি এখনো প্রবল। ফলে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তির বিকাশ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হবে স্বাধীন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ : ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় বিজয়ের পেছনে প্রধান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : নির্বাচনের ফল সাধারণত বহুমাত্রিক কারণের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা, উচ্চমূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের আকাঙ্ক্ষাকেও ভোটারদের আচরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিদিনের সংবাদ : বিএনপির এ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতন্ত্রকে কতটা শক্তিশালী করবে? ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : বড় ধরনের গণরায় একটি সরকারের জন্য নীতিনির্ধারণে শক্তিশালী ম্যান্ডেট তৈরি করে। এর ফলে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নয়, বরং জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের মধ্যে নিহিত। সংসদ, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ : তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করা। এছাড়া প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ : দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তা হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক, মূল্যবোধনির্ভর এবং নীতিকেন্দ্রিক। তাদের ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংবিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞানার্জন করতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিতে হবে, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হবে। নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, দক্ষতা এবং জনসেবার মানসিকতা।

প্রতিদিনের সংবাদ : বর্তমান সরকারের কাছে শিক্ষা, গবেষণা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বিষয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : আমার প্রধান প্রত্যাশা হলো রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের কেন্দ্রে মানবসম্পদ উন্নয়নকে স্থান দেওয়া। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা তহবিল সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন প্রদান জরুরি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই টেকসই উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।

প্রতিদিনের সংবাদ : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র হিসেবে আরো কার্যকর করতে কী করা প্রয়োজন?

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়। এটি জ্ঞান সৃষ্টি ও সমালোচনামূলক চিন্তার কেন্দ্র। এজন্য প্রয়োজন একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কমানো। আধুনিক গবেষণাগার ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন। আন্তঃবিষয়ক গবেষণাকে উৎসাহিত করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্ত বিতর্কের পরিবেশ তৈরি করা। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে মুক্তবুদ্ধি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী দশক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনমিতির সুবিধা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। আগামী দশকের পাঁচটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন। বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবননির্ভর এবং উচ্চ উৎপাদনশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়