নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১০ ঘণ্টা আগে

প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী, এগিয়ে মেয়েরা

আবহাওয়া দেখে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত

চলতি বছর প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এ মোট ৭৯ হাজার ২৪৬টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পায়। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফেকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি), শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকার বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। গতকাল (শনিবার) থেকেই ৬৪ জেলার ডিসি ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনো এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করতে হলে তা পরবর্তী সময়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শাহীনা ফেরদৌসী জানান, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন; যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ আয়োজন শুধু মেধা যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতামূলক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’ পরে শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির ফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমি বৃত্তির রেজাল্ট ঘোষণা করলাম। সেইসঙ্গে আগামী দিনে বৃত্তিতে আমরা অলমোস্ট ডাবল করছি। টাকা বাড়ানো হয়েছে। তিনশ’কে ছয়শ’ করেছি, সোয়া দুইশ’কে সাড়ে চারশ’ করেছি। বৃত্তির ফল আপলোড করা শুরু হয়েছে। ডিজি সাহেব জানালেন দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে ফল পাওয়া যাবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৭৮ হাজার ৮১০টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫টি আর বেসরকারি বিদ্যালয় ছিল ১৩ হাজার ২০৫টি। ২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ৬ লাখ ৪৫ হাজার পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। তাদের মধ্যে সরকারি স্কুলের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি স্কুলের ৭৮ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। বৃত্তি পাওয়া ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্রের মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ১৬ হাজার ৩৯৮ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৯৪ জন। আর বৃত্তির পাওয়া ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৬ হাজার ৫৬৭ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ২৬ হাজার ৭৮৭ জন।

সবচেয়ে বেশি বৃত্তি পাওয়া জেলা ঢাকা। এ জেলায় ৪ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ৮৯৭ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ জন। সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলায় ১৮৮ জন। দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, এ জেলায় ১৫ হাজার ৩৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছে ৮ হাজার ৮৯৮ জন। ২০২৬ সালের জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ছিল ৪৯ হাজার ৫০০। ট্যালেন্টপুলে এককালীন বৃত্তি ছিল ২২৫ টাকা ও মাসিক ৩০০ টাকা। আর সাধারণ বৃত্তিতে এককালীন ছিল ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা। ২০২৬ সালের জন্য যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে বৃত্তির সংখ্যা একই আছে, তবে বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে এককালীন ২২৫-এর স্থলে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে এবং মাসিক ৩০০-এর স্থলে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে এককালীন ২২৫ টাকাকে ৪৫০ টাকা করার এবং মাসিক ২২৫ টাকাকে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে- যোগ করেন শাহীনা ফেরদৌসী।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়