নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৭ ঘণ্টা আগে

আরো ১০ জেলায় হচ্ছে রেল যোগাযোগ

দেশের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরো ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একইসঙ্গে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন, টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। রেলমন্ত্রী বলেন, রেল খাতের চলমান কার্যক্রম, সংযোগ বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা আরো উন্নত করার লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব জেলা এখনো সরাসরি রেল যোগাযোগের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে সব জেলাকে রেলসেবার আওতায় আনা। এ উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য নতুন রেললাইন ও সংযোগ প্রকল্পের প্রাথমিক উপস্থাপনাও করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল প্রকল্পের পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। একইসঙ্গে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের পরিবর্তে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লাইন নির্মিত হলে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসতে পারে। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেল সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে- যাতে কর্মজীবী মানুষ স্বল্প সময়ে রাজধানী ও আশপাশের জেলার মধ্যে যাতায়াত করতে পারেন। মন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে নতুন রেল প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু রেললাইন নির্মাণ নয়, একই প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে রেললাইন নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন পরিচালনা শুরু করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর একটি পিলারের নিচ থেকে মাটি সরানোর ঘটনায় প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সেতুর নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি; প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কিছু মাটি অপসারণ করা হয়েছিল। এছাড়া রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো ধীরে ধীরে শহরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডগুলো যাত্রী ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত হবে, তবে দীর্ঘসময় বাস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যে যানজট ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়, তা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়