বদরুল আলম মজমুদার
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ১০ মার্চ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর খুবই দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে দলটির আকর্ষণীয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। আগামী ১০ মার্চ বিতরণ শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সহসা বিতরণ শুরু হবে কৃষক কার্ডও।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম আগামী ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন ফ্যামিলি কার্ডধারীরা। তিনি আরো জানান, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ১৩টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু হবে। এর ৪ মাস পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তিন শ্রেণির হতদরিদ্ররা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
প্রসঙ্গত, আসন্ন ঈদের আগেই সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচিটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) এ কর্মসূচি পরিচালনায় সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও আরো দুটি উপজেলা যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। সম্ভাব্য উপজেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার গাবতলী ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রতি উপজেলায় ১ হাজার করে প্রায় ১০ হাজার উপকারভোগী পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে নগদ ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, চার মাসের জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হলে ৮ কোটি টাকা এবং আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হলে ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বৈঠকে উপকারভোগীর সংখ্যা, নির্বাচনের মানদণ্ড এবং বাস্তবায়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রতিবেদনটি অনুমোদন করলে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। উপকারভোগীর চূড়ান্ত সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন।
নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড। ওইসময় দলের তরফে বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ অর্থ ও পণ্যসেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। প্রতি পরিবারে শুধু একটি কার্ড ইস্যু করা হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত- এ ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র এবং দরিদ্র পরিবারকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। কারণ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত এ সুবিধা নিতে চাইবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এর আগে রবিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে ফ্যামিলি কার্ড সবাইকে দেওয়া হবে। ফ্যামিলি প্রধান, অর্থাৎ ‘মা’ এ কার্ড পাবেন। আর ফ্যামিলি কতগুলো হয়, আমরা ধরে নেই- ৫ জনের যদি একটি ফ্যামিলি হয়, আমাদের মানুষ যদি ১৮ কোটি হয়, তাহলে সাড়ে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র আছে। আবার কেউ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং কেউ উচ্চবিত্ত আছে। ফ্যামিলি কার্ড তো সব পরিবার ইনজয় করবে না। এ সুবিধা সবাই ভোগ করতে চাইবে না। যাদের করা উচিত, অর্থাৎ হতদরিদ্র এবং দরিদ্র- এ দুটি গ্রুপকে আমরা ইউনিভার্সাল দেব।
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করতে যা যা লাগবে : আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। তবে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের জন্য- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, একটি সচল মোবাইল নম্বরসহ কাগজগুলো সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে।
আবেদন কোথায় করবেন : পাইলট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়, সরকারি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল (যা চালুর প্রক্রিয়া চলছে) থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।
"









































