কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ২৮ মে, ২০১৬

আসলাম চৌধুরীর রহস্যজনক উত্থান

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। বছর দু-এক আগেও চট্টগ্রামের বিএনপি রাজনীতিতে তার উল্লেখ করার মতো অবস্থান ছিল না। চট্টগ্রামে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও কেন্দ্রের ধারেকাছে যেতে পারতেন না। বিএনপি নেত্রীর কাছেও ছিলেন না গ্রহণযোগ্য কেউ। সেই আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রামের রাজনীতিতে হঠাৎ অনেক বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ব্যবসায়ে প্রসার ঘটাতে না পারলেও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পেয়ে যান হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ। চলমান ইউপি নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনয়নে তাকে দেওয়া হয় একক ক্ষমতা। এমনকি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি গঠন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে একক ক্ষমতা চলে আসে আসলাম চৌধুরীর হাতে। অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা না থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় সম্প্রতি হয়ে যান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি। চট্টগ্রামের বিএনপির সিনিয়র নেতারা তার এ উত্থানে কিছুটা হতভম্ব হলেও নিজেদের সামলে নেন। সবকিছু ছেড়ে দেন সময়ের ওপর। মোসাদ কানেকশন নিয়ে আসলাম চৌধুরীর গ্রেফতার এবং নানা আলোচনার কোনো প্রভাব নেই চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে। আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে এসব কর্মকা- দেখলেও নীরবতা পালন করাই শ্রেয় মনে করছেন সবাই। কেউ মুখ খুলছেন না তার ব্যাপারে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ২০০২ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন আসলাম চৌধুরী। তখন বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর দুই বছরের মধ্যে উঠে আসেন জেলার সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। পাশাপাশি জায়গা করে নেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল জেলা বিএনপির সভাপতির পদও তার দখলে চলে আসে। তার দুই বছর পর কিছুদিন আগে দলের যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে আসেন তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে এভাবে অবিশ্বাস্য ও রহস্যজনক উত্থান অন্য কোনো সিনিয়র নেতার না হলেও হয়েছে আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে। এ সময়ের মধ্যে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিকও বনে যান তিনি। আসলাম চৌধুরীর এমন উত্থানে চট্টগ্রামের অনেক বিএনপি নেতাও হতবাক। কীভাবে তার এ উত্থান এর উত্তর মেলাতে পারছেন না তারা। তবে বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই জানেন, তারেক রহমানের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে। তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে ক্রমেই পরিচিত হতে থাকেন এই বিএনপি নেতা। বর্তমানে বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতে জড়িত থাকার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন আসলাম চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে কলেজের শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে এফসিএ পাস করেন। চাকরি নেন চট্টগ্রামের কবির স্টিল মিল নামের একটি রড কোম্পানিতে। পরে এখান থেকে কনফিডেন্স সিমেন্ট কোম্পানির অর্থব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে এই সিমেন্ট কোম্পানিতে সিএফও (হিসাব বিভাগের প্রধান) পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরিতে থাকাকালীন তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরে চাকরি ছেড়ে কনফিডেন্স সল্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে শুরু করেন ব্যবসা। যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বেশ কয়েকটি রুগ্ণ শিল্পকারখানা কেনেন আসলাম চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে রাইজিং গ্রুপ নামে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। এ গ্রুপের আওতায় কাগজে-কলমে ৩০টির মতো প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো হয়। তার গড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানা, সীতাকু-সহ বেশ কয়টি স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দখল করে স্বয়ংক্রিয় ইটভাটা, চকরিয়ার হারবাংয়ে অবস্থিত ইনানি রিসোর্ট, চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ ও সাগরিকা সড়কে ফিশ প্রিজার্ভার্স নামে দুটি মৎস্য সংরক্ষণ কারখানা। এ ছাড়া সীতাকু-ে শিপ ব্রেকিং ব্যবসা, এয়ার এভিয়েশন, আবাসনসহ হরেক রকমের ব্যবসা রয়েছে তার। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি বিএনপি সরকারের আমলে ১০-১২টি ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নিয়েছিলেন। এসব ব্যাংকঋণের মধ্যে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা এখনো অনাদায়ী। এর মধ্যে রাইজিং স্টিল লিমিটেড ও লার্ক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের কাছে ২৬৩ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে লংকাবাংলা ফিন্যান্স ও সাউথইস্ট ব্যাংকসহ তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া এবি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩৫৩ কোটি টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ও আর নিজাম রোড শাখা থেকে ২৫৭ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৮৩ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক হালিশহর শাখা থেকে ৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেনি আসলাম চৌধুরীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ প্রসঙ্গে আসলাম চৌধুরীর ভাই ও রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক বছরে সরকারের অসহযোগিতা ও মামলা-হামলার কারণে রাইজিং গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়েছে। এ কারণে বড় ধরনের আর্থিক দেনার মুখে পড়ছে রাইজিং গ্রুপ।’

কিন্তু ভারতে মোসাদ কানেকশনের পর তদন্তে বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ তথ্য। গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের একাধিক সংস্থা তার ব্যাপারে যে অনুসন্ধান চালাচ্ছে তাতে আসলাম চৌধুরী বিরাট অঙ্কের টাকা দেশ থেকে সরিয়ে ফেলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা ঋণ হিসেবে তুলে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার যোগসাজশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে গ্রেফতারের পর নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন ব্যাংকও। তার যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগই এখন বন্ধ। একটি লবণ ফ্যাক্টরি ছাড়া বাকিগুলো চলছে কাগজে-কলমে। এ অবস্থায় তার কাছ থেকে ঋণ আদায় করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরী বিএনপি রাজনীতিতে তেমন নজরে না আসার কারণে তাকে দিয়েই একটি মহল আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সচল করে। আর এ বিষয়টি বিএনপি চট্টগ্রামের অনেক সিনিয়র নেতা জানতেন। ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা বা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ জানতেন। তাদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল চরমে ওঠার কারণে বিএনপি নেতারাই এটি ফাঁস করে দেন। পরে যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের কোনো ব্যবসা নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন না। আর আসলাম চৌধুরী এত বড় মাপের কোনো নেতাও নন যে, তার সঙ্গে ইসরাইলের কোনো নেতা আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। এ ক্ষেত্রে আসলাম চৌধুরী অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে ভারতে ‘মোসাদের’ সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার ঝড় তোলা আসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও অবিশ্বাস্য রকম রহস্যজনক। রাজনীতিতে ১০ বছরেরও কম সময়ে একে একে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও স¤প্রতি যুগ্ম মহাসচিবের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকু-ে নাশকতা-সহিংসতার ঘটনায় আসলাম চৌধুরীকে মূল ইন্ধনদাতা ও অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের থানাগুলোতে তার বিরুদ্ধে রয়েছে নাশকতার ১৮টি মামলা। নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় দেড় মাস জেল খেটে মাস দুয়েক আগে জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখে আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান, আমীর খসরু, মীর নাছিরসহ চট্টগ্রামের অন্য সিনিয়র বিএনপি নেতাদের চেয়ে দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন আসলাম চৌধুরী। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতাও দেওয়া হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে কোন্দল, অসন্তোষও কম হয়নি। এর রেশ কাটতে না কাটতে খবর এলো ভারত সফরে গিয়ে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি ও মোসাদের এজেন্টদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বৈঠক করেছেন আসলাম চৌধুরী। ওই বৈঠকের একাধিক ছবি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সংগ্রহ করেছে। বৈঠকের ছবি প্রসঙ্গে আসলাম চৌধুরী শুরুতে বলেছিলেন, তিনি দিল্লি সফরকালে ট্যুরিস্ট বাসে চলার সময় মোসাদের এজেন্ট শিপন কুমার বসুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত লোকজন একটি ছবিও তোলেন। কোনো ধরনের বৈঠকে তিনি ছিলেন না। আবার পরে বলেন, এটি কোনো গোপন কিংবা ষড়যন্ত্রের বৈঠক নয়, একটি প্রকাশ্য বৈঠক। অথচ ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিনিধির সঙ্গে ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রকাশিত হয়। সেখানে মেন্দি এন সাফাদি বলেছেন, ‘শিগগিরই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আর এটা অসম্ভব কোনো আকাক্সক্ষা নয়। নির্যাতিত এবং মানুষের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। সেজন্য আমি এসব লোকের সহায়তার জন্য রয়েছি। বাংলাদেশে নির্যাতনের কাহিনিগুলো সত্যিকারের। ফিলিপাইনের মতো বানানো নয়। এখানে মানুষ নিপীড়িত হচ্ছে, কারণ তারা ভিন্নমতের। এ ক্ষেত্রে আমি ইসরাইলি হিসেবে গর্বিত। আমি আরো গর্বিত, অনেক বাংলাদেশি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল। যদিও বাংলাদেশের নাগরিকদের পাসপোর্টেও লেখা থাকে, ইসরাইল ছাড়া সারা বিশ্বে তারা ভ্রমণ করতে পারবেন। সেটাও আমি শিগগিরই পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।’

এদিকে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বৈঠকে উপস্থিত ১০ জন মিলে গ্রুপ ছবি তোলার পাশাপাশি কখনো যৌথ, কখনো বা তিনজন মিলে, ফুলের মালা পরে এবং করমর্দন অবস্থায়ও ছবি তুলেছেন তারা। একটি ছবিতে দেখা গেছে, বৈঠকস্থলে পৌঁছার পর হাস্যোজ্জ্বল আসলাম চৌধুরীকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানান দুই সুদর্শনা। এদের একজন আসলাম চৌধুরীর কপালে তিলক পরিয়ে দেন। আরেক ছবিতে আসলাম চৌধুরীকে ডাইনিং টেবিলে বসে খেতে দেখা গেছে। সেখানে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন মেন্দি এন সাফাদি, অভিষেক গুপ্ত ও এক নারী।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলাম চৌধুরী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক উত্থান যেভাবে হয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। রাজনৈতিক কূটচালে তারেক রহমানের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। এর ফলে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে না করতেই তিনি একের পর এক পদ পেয়ে আসছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist