নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

সৈয়দ আবুল হোসেন আর নেই

একজন পরিচ্ছন্ন এবং একসময়ের আলোচিত রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন আর নেই। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার একটি বেরসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবুল হোসেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এভং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপ্রধান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ব্রাসেলস অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোক বার্তায় মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তিনি শিক্ষা বিস্তারে দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন। আমাদের গৌরবের পদ্মা সেতু নির্মাণে তার অনন্য অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। আমাদের কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, সৈয়দ আবুল হোসেন এক স্ত্রী খাজা নার্গিস, দুই মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন এবং সৈয়দা ইফফাত হোসেনসহ অসংখ্য গুণিজন রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ডাসার, কালকিনিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫১ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর আবুল হোসেন সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে সাহকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং সাহকো এনজিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এশিয়ার বোয়াও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, যা ২০০১ সালে চিনের হাইনান প্রদেশে ধারণ করা হয়েছিল।

আবুল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন।

২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে সরকার। কিন্তু বছরের শেষ দিকেই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন।

সৈয়দ আবুল হোসেন সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকেও দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এ সময় তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে। যদিও ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয় দুদক। কিন্তু ৩০ জুন পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। তবে ৯ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতে একটি মামলা হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার আদালত জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৈয়দ আবুল হোসেন ডাসার থানাকে ডাসার উপজেলায় রূপান্তরিত করেন।

তার এই অকালমৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপিরসহ গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ডাসার উপজেলার কৃতী সন্তান আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

রাজনীতিবিদদের শোক : সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুুর রাজ্জাক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদল্লুাহ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক : সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সৈয়দ আবুল হোসেনের ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত তথ্যমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ড. হাছান ব্রাসেলস থেকে পাঠানো শোকবার্তায় বলেন, বলিষ্ঠ রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তথ্যমন্ত্রী প্রয়াতের কর্মজীবন স্মরণ করে আরো বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে সৈয়দ আবুল হোসেন অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়