নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ মানুষের শরীরে হাড়ের দুই জয়েন্টের প্রদাহজনিত একটি রোগ। সাধারণত গিরার প্রদাহ বোঝানো হয়, যা সন্ধিবাত নামেও পরিচিত। আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশন আটল্যান্টের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মানুষের কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থ্রাইটিস বাত নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগ নয়। এটি বেশ কয়েকটি সমপর্যায়ভুক্ত রোগের সমষ্টির বহিঃপ্রকাশ। তবে সচরাচর অ্যানক্লোইজিং স্পনডিলাইটিস, গাউট, লুপাস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস মতো সমস্যাগুলোই বেশির ভাগ মানুষের কাছে পরিচিত। চিকিৎসকদের মতে, রোগীরা প্রায় ১০০ ধরনের আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। যার লক্ষণ হলো হাড়ের প্রদাহ বা হাড়ক্ষয়, লিগামেন্ট ও টেন্ডনের ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা, মেরুদ-ের প্রদাহ, আড়ষ্টতা, অস্থিসন্ধি লাল হয়ে যাওয়া, অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া প্রভৃতি। ক্রিকেট, গলফ, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল ও তির নিক্ষেপ ইত্যাদি খেলায় ভুল টেকনিকের কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সমস্যার শুরুতে হাতের কনুইয়ের বাইরের দিকে ব্যথা অনুভূত হয়। হাতের নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকলে মাংশপেশির শক্তি ও হাতের কর্মদক্ষতা কমে আসে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা থাকে এবং এই ব্যথা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। হাত ও পায়ের ছোট জোড়াগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। প্রায়ই সমানভাবে দুই পাশের অর্থাৎ ডান ও বাম দিকের জোড়াগুলোতে ব্যথা হয়। অনেক সময় ঘাড়েও ব্যথা হতে পারে। এ রোগের ব্যথা কাজ করলে কমে; কিন্তু বিশ্রাম নিলে বেড়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা আস্তে আস্তে কমে। এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্তরা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করলে নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।’

বাতরোগ যখন হয় : এ রোগে সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়সি মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার নারীর তুলনায় অনেক বেশি। নারীদের এ রোগ সাধারণত মেনোপজের পর বেশি হয়ে থাকে। শিশু ও তরুণদের সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না।

বাতরোগ যেভাবে হয়ে থাকে : মূত্রের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড প্রতিদিন আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। অন্যদিকে মানবদেহের যকৃৎ যখন তার পরিমাণ থেকে বেশিমাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে ফেলে এবং তা রক্তে পরিমাণে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায় ও বের হতে পারে না, তখন বাতরোগের উৎপত্তি হয়।

খাবারের উৎস : খাবার থেকে ইউরিক অ্যাসিড উৎসের মধ্যে লাল মাংস, ক্রিম ও রেড ওয়াইন অন্যতম। কিডনি রক্ত থেকে স্বাভাবিক মাত্রার ইউরিক অ্যাসিড ফিল্টার করে বের করতে না পারলে বাতরোগের উপসর্গ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে ইউরিক অ্যাসিড বিভিন্ন জয়েন্টে ক্রিস্টালরূপে জমা হতে থাকে। ফলে জয়েন্টগুলো ফুলে যায়, জয়েন্টে প্রদাহ তৈরি হয় এবং ব্যথার সৃষ্টি করে। এতে জয়েন্টগুলো ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়।

বাতরোগের কারণ : বিভিন্ন জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড জমার কারণেই বাতরোগ হয়ে থাকে। শতকরা ২০-২৫ ভাগ বাতের রোগে আক্রান্তদের পারিবারিক ইতিহাস পাওয়া যায়। যেসব কারণে বাতরোগের ঝুঁকি বাড়ে- এর মধ্যে ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, অতিরিক্ত ওজন সিকল সেল অ্যানিমিয়া উল্লেখযোগ্য। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে বাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ- অ্যাসপিরিন, ডাই-ইউরেটিকস, লিভোডোপাজাতীয় ওষুধ বাতের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

বাতরোগের চিকিৎসা : বাতরোগের চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করা। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এজন্য একজন ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট আপনাকে সঠিক মাত্রার ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে আপনাকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

প্রতিরোধ : এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এজন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ছাড়াও রোগীকে প্রচুর পানি পান করতে হবে। সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, তা এড়িয়ে চলতে হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close