জিয়াউদ্দিন রাজু

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু

সামনে শুরু হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও ভালো ফল পেতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে কৌশল নির্ধারণে কাজ করছে ক্ষমতাসীন দল। স্থানীয় কোন্দল মিটিয়ে সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে সারা দেশে। দলটির নেতাদের মতে, দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচন না করলেও দলটির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীদের ইন্ধন দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতারা নির্বাচনের মাঠ ঘোলা করার চেষ্টাও করতে পারে। এ জাতীয় অনেকগুলো ইস্যু মাথায় নিয়ে ইউপি নির্বাচনী লড়ায়ে নামছে আওয়ামী লীগ। যদিও এসব বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচনে না এলে তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা এসব তথ্য জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাবে বলেই ইউপি নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারে। তবে তারা এমনি এমনি বসে থাকবে না। তাই সবাইকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তাই বসে নেই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের প্রার্থীরা। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে গ্রামগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ আসায় দলের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবণতা আরো বেড়েছে। অনেকেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোও তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী কৌশল ও প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগে দলীয় প্রতীক পেতে তৃণমূলের প্রার্থীরা এরই মধ্যে উঠান বৈঠক শুরু করেছেন। নির্বাচনের ব্যাপারে এলাকাবাসীর মতামত জানতে এসব বৈঠক করছেন। নির্বাচনের দিনকাল ঠিক না হলেও দলীয় নেতাদের নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ইউনিয়নের হাট-বাজারে প্রার্থী হওয়ার জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। নির্বাচন সামনে রেখে ঘরোয়া নির্বাচনী সভা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অনেক প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলছে চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া দলীয় প্রতীক পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক। স্বচ্ছ ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন নেতাকেই বাছাই করা হবে। তবে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে বাকিরা সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। এবারও দলীয় প্রতীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তাই কেউ দলের বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন বার্তা তৃণমূলে পাঠানো হচ্ছে।’ জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃশ্যমান উন্নয়নের কারণে জনগণ এখন অপপ্রচারে কান না দিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এই ধারা ইউপি নির্বাচনেও অব্যাহত থাকবে। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিএনপির কোন নেতা কী বলল আর না বলল- তাতে কিছু আসে-যায় না।’

যদিও গণতান্ত্রিক দ্বারায় ইউপি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপিকে অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপিসহ সব দলের সঙ্গে মিলেমিশে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কথা শুনে মনে হয়, তারা যেন নির্বাচন ছাড়াই জয়ী হতে চায়। অর্থাৎ আগের মতো ভুয়া ভোটার দাঁড় করিয়ে, ব্যালেট বক্স ছিনতাই করে তারা জয়ী হতে চায়। কিন্তু এ ধরনের সিস্টেম যে এখন আর নেই সেই বিষয়গুলো বিএনপির মাথায় আগে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ তৃণমূলে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বেশি। বিএনপি নির্বাচনে এলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে তারা বরাবরের মতো নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে তারও জবাব দেওয়া হবে।’

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close