ব্রেকিং নিউজ

মিলবে না সেবা মাস্ক ছাড়া

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও দেশের অনেক মানুষ মাস্ক পরতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই এবার সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসেও মাস্ক ছাড়া কেউ সেবার জন্য গেলে তাকে সেবা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল রোববার ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সূত্র : ইউএনবি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যতগুলো ইনস্টিটিউশন আছে, সোশ্যাল, অরগানাইজেশনাল বা ফরমালÑ সেসব প্রতিষ্ঠানে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। হল, প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, শপিং মল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মিলনে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা এটা কম্পালসারি করে দিয়েছি। সরকারি-বেসরকারি অফিসে ‘মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না’Ñ এ রকম পোস্টার টানাতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাস্ক পরা যে সরকারি নির্দেশ, তা নামাজের পর মুসল্লিদের দিনে অন্তত দুবার জানিয়ে দিতে মসজিদের ইমামদের বলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সরকার বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে শিথিলতা দেখা যায়। এখন আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শীতকে সামনে রেখে এর মধ্যেই সব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভা ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদ-ের পাশাপাশি মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে সম্প্রতি জারি করা অধ্যাদেশের জায়গায় সংসদের মাধ্যমে আইন আনতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২০-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদনও দিয়েছে।

এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- করার দাবির মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নেয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় তখন আইন সংশোধনের পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। আগামী ৮ নভেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন শুরু হচ্ছে, এজন্য অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হলো। লেজিসলেটিভ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেবেন, তার সংশোধিত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদ-েও দ-নীয় হবেন। সংশোধিত আইনের খসড়ায় ৯(১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আইনের ৯(৪)(ক) উপধারায় ছিলÑ ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদ-েও দ-নীয় হইবেন।’

এই উপধারা সংশোধন করে খসড়ায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-’-এর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ষণ ছাড়া সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে। এ ছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে ‘শিশু আইন, ২০১৩’। ২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া মেডিকেল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে। অধ্যাদেশে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২-ক শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয় অধ্যাদেশে। সেখানে বলা হয়, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২-এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।

 

"