জেলে নেওয়া হলো মিন্নিকে

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

বরগুনা প্রতিনিধি

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির আদেশের পরপরই মিন্নিকে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। পরে তাকে শহরের সদর হাসাপাতালের পাশের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবু।

গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মিন্নি ছাড়া দ-প্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান। বাকি ৪ আসামি মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল ইসলাম সাইমুন এবং মো. সাগরকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে এর মধ্যে মুসা পলাতক থাকায় আদালত তাকে গ্রেফতারের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হালদার।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের পর দিন ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা ও মিন্নির শ্বশুর আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। তবে মামলার ১৮ দিন পর ১৩ জুলাই এ হত্যাকান্ডে মিন্নি জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। পরদিন আয়েশার গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা। এরপর মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়।

১৬ জুলাই মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনসে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তবে মেয়ের পক্ষে মোজাম্মেল হক কিশোর শুরু থেকেই মামলায় মিন্নিকে আসামি করা ও গ্রেফতারকে প্রভাবশালী মহলের কারসাজি বলে দাবি করে আসছেন। এরপর নিম্ন আদালতে কয়েক দফা জামিন আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উচ্চ আদালতে মিন্নির পক্ষে জামিন আবেদন করেন উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। গত বছরের ২৯ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আয়েশাকে জামিন দেন।

জামিন আদেশে বলা হয়, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় হলে জামিন বাতিল হবে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দেন। এতে আয়শার জামিনের আদেশ বহাল থাকে। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তার জামিন বহাল ছিল।

রায় ঘোষণার দিন গতকাল বুধবার সকাল ৯টার আগে মামলার অন্যতম আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তার বাবার মোটরসাইকেলে করে আদালতে উপস্থিত হন। মামলার আসামিদের মধ্যে কেবল তিনিই জামিনে ছিলেন।

রায়ের আগে মিন্নি তার বাবাকে বলছিলেন, খালাস পাবেন বলেই তার বিশ্বাস। কিন্তু রায়ে তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর মিন্নির বাবা বলেন, ‘আমরা বিক্ষুব্ধ। এই রায় আমাদের মনঃপূত হয়নি। রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

 

 

"