সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে চার আত্মঘাতী নারী জঙ্গি গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ‘ফিদায়ী হিজরত’ বা ‘আত্মঘাতী’ শাখার সন্দেহভাজন চার নারী সদস্যকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে জেলার কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলী গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন বড়াইগ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী ও জেএমবির শীর্ষ ফেরার নেতা ফরিদুল ইসলামের মা ফুলেরা খাতুন (৪৫), দুই মেয়ে শাকিলা খাতুন (১৮) ও সালমা খাতুন (১৬) এবং প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া (৩৫)। ফরিদুলের বাড়িতে গোপন বৈঠককালে তাদের আটক করা হয় বলে দাবি ডিবির।
পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহম্মেদের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক রওশন আলী এবং উপপরিদর্শক ইয়াসির আরাফাত ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ পর্যন্ত জেলায় ৩১ জেএমবি সদস্য ধরা পড়লেও এই প্রথম কোনো আত্মঘাতী দলের সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা ‘ফিদায়ী হিজরত’ বা ‘আত্মঘাতী’ হামলার মাধ্যমে কাফির, মুশরিক, মুরতাদ বা ইসলামের শত্রুদের হত্যার উদ্দেশ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
ডিবি পুলিশের সেকেন্ড অফিসার রওশন আলী জানান, ‘গত বছর কাজিপুরে জেএমবির বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় শীর্ষ ফেরার নেতা ফরিদুল ইসলাম গা-ঢাকা দেয়। মূলত তারই প্ররোচনায় তার দুবোন, মাসহ প্রতিবেশীরা জেএমবি কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে।’ ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, ‘এক বছর আগে জেএমবি নেতা ফরিদুল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কাজিপুর উপজেলার বড়াইতলীর এ পরিবারটিকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছিল। বড় ধরনের নাশকতার ঘটনার আগেই পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহম্মেদের নির্দেশে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হাইকমান্ডের নির্দেশে আটককৃত এসব নারী জেএমবি ‘ফিদায়ী হিজরত’ বা ‘আত্মঘাতী’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে জব্দ কম্পিউটার থেকে তথ্য পাওয়া যায়, বিভিন্ন চায়নিজ ও জাপানি কুংফু-কারাতের ছবি দেখে এরা নিজেরাই শারীরিক কসরতের প্রশিক্ষণ নিত। তাদের সবার শরীরে টাইম বোমা যুক্ত করে নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল এদের প্ররোচনাকারীদের। ভালো ঘরে বিয়ে ও সংসার ধর্ম পালনের পর এরা আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে কাফের, মুশরিক ও মুরতাদ হত্যা করে অনায়াসেই বেহেশতে প্রবেশ করবে, এমন বিশ্বাসে এদের সংগঠিত করা হয় বলেও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা নাশকতার ঘটনা ঘটায়, তারাই এদের অনুসারী বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ জুলাই সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার নারী সদস্যকে আটক করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার বাদুল্যাপুরের মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নাদিরা তাবাসসুম রানী (৩০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্র ফুলকোটের মো. খালিদ হাসানের স্ত্রী হাবিবা আক্তার মিশু (১৮), এই উপজেলার পরানবাড়িয়ার সুজন আহমেদ বিজয়ের স্ত্রী রুমানা আক্তার রুমা (২১) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোচাদহ দক্ষিণপাড়ার মামরুল ইসলাম সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম (১৯)। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের দাবি, ওই চার নারী তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বামীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়েছেন।
"









































