বিনোদন প্রতিবেদক
বাবা চরিত্রে আলোচনায় খায়রুল আলম সবুজ

খায়রুল আলম সবুজ, বাংলাদেশের একজন জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতা। বহু নাটকেই তিনি বাবার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। কিছুদিন আগে একটি ওটিটি প্লাটফরমে প্রকাশিত কাজী আসাদ পরিচালিত ‘লাইফলাইন’স ওয়েব ফিল্মে বিদ্যা সিনহা মিমের বাবার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। একজন বাবার চরিত্রে নিখুঁত অভিনয়ের কারণে এই মুুহূর্তে বেশ আলোচনায় রয়েছেন খায়রুল আলম সবুজ।
ফিল্মটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে খায়রুল আলম সবুজ বলেন, ‘এর আগেও আমি অনেক নাটকে বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। এবারই প্রথম বিদ্যা সিনহা মিমের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। মিম চমৎকার অভিনয় করে। আমি আমার চরিত্রটি চেষ্টা করেছি ঠিকাঠাক মতো ফুটিয়ে তুলতে। ফিল্মটি প্রকাশ্যে আসার পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। যখন যেখানেই যাচ্ছি সবাই এটা নিয়ে কথা বলছেন। ধন্যবাদ কাজী আসাদকে আমাকে এতো সুন্দর একটি চরিত্রে কাজ করার সুযোগ করে দেবার জন্য।’
মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে বরিশালে থাকাকালীন অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন খায়রুল আলম সবুজ। তখন পাড়ায় মঞ্চদল করে নাটকে অভিনয় করতেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ‘নাট্যচক্র’ নামক সংগঠনের মাধ্যমেই নাটকের এক বৈপ্লবিক আন্দোলন শুরু হয়। নাট্যচক্র থেকেই সেলিম আল দীন ও আল মনসুরের লেখা দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর তিনি ‘থিয়েটার’-এ যোগ দেন। এই দলের হয়ে মঞ্চে ২২ বছর অভিনয় করেছেন। থিয়েটারের হয়ে খায়রুল আলম সবুজ অভিনয় করেছেন ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘এখানে এখন’, ‘ওথেলো’, ‘সেনাপতি’সহ আরো বেশকিছু নাটকে। এই দলের হয়ে তিনি নিদের্শনা দেন নিজেরই অনুবাদ করা নাটক ‘আন্টিগোনে’। এটি একটি ফরাসি নাটকের অনুবাদ ছিল। খায়রুল আলম সবুজের জন্ম বরিশালে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সবুজ প্রথম অভিনয় করেন প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘জলের রঙ্গে লেখা’ নাটকে।
টিভিতে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ‘ঢাকায় থাকি’। তবে চলচ্চিত্রে এই বরেণ্য অভিনেতাকে খুব কমই দেখা গেছে। পুনে ইন্সটিটিউট থেকে নির্মিত ‘উজান’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। এরপর ‘ছাড়পত্র’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেন। বেলাল আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’, সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লাবাড়ির বউ’ চলচ্চিত্রেও তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা তাকে মন থেকে খুব বেশি সায় দেয়নি বলেই সেখানে তার উপস্থিতি কম। অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি নিরলস। নিরিবিলি, কিছুটা অলক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায়। সাহিত্যচর্চাকে তিনি তার জীবনের কাজ বলে মনে করেন। মৌলিক কাজ যেমন করেছেন তেমনি করেছেন অনুবাদের কাজ।
"









































