reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

অধিকার ফিরে পেলেন হিন্দু বিধবা নারীরা

এমনিতেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা পৈতৃক অথবা স্বামীর সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারায় সব সময় পেছনের সারিতে থেকেছেন। এরপর যদি সেই নারী বিধবা হয়ে থাকেন, তাহলে তো নিগ্রহের সীমা নেই। ভারত উপমহাদেশে প্রধান তিন ধর্মীয় সম্প্রদায় হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান। এদের সম্পত্তির নিজস্ব ভাগবাটোয়ারার বিধান রয়েছে। তবে এ কথা সত্য, তুলনামূলক বিচারে হিন্দু নারীরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পৈতৃক অথবা স্বামীর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার তেমনভাবে কখনোই শক্ত অবস্থানে ছিল না। এখনো তার খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি রায় অধিকার প্রশ্নে হিন্দু বিধবা নারীর মর্যাদাকে অনেকটা সুসংহত করেছে। রায়ে বলা হয়, হিন্দু বিধবা নারীরা শুধু বসতভিটা নয়, স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন।

রায়ে আরো বলা হয়, আইনে কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির কথা বলা নেই। এখানে ‘সম্পত্তি’ শব্দের অর্থ সব সম্পত্তি। যেখানে স্থাবর বা অস্থাবর, বসতভিটা, কৃষিভূমি, নগদ অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি। কৃষিজমি ও বসতভিটার মধ্যে পার্থক্য করার কোনো সুযোগ নেই এবং এ ধরনের সম্পত্তি বিধবার বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। তথ্য মতে, ৮৪ বছর ধরে স্বামীর কৃষিজমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবা নারীদের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসংগতি দূর করে একটি ঐতিহাসিক রায় দিল হাইকোর্ট। অধিকার প্রশ্নে পেছনের ইতিহাস আরো বেদনাদায়ক। একসময় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বার বিয়ে করার কোনো অধিকারই ছিল না। আরো আগে স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিধবাকে সহমরণে চিতায় বিসর্জন দেওয়া হতো। এ প্রথা রদ করে ব্রিটিশ সরকার। সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। নারী অধিকার প্রশ্নে ভারতে আইনের সংস্কার হয়েছে অনেক। কিন্তু নারীরা এখনো অবহেলিত, কেবল ভারতেই নয় গোটা উপমহাদেশে।

একটি নির্দিষ্ট কেসের বিপরীতে আদালতের এই রায় আসে। খুলনার রাজবিহারী মণ্ডলের দুই ছেলে জ্যোতিন্দ্রনাথ মণ্ডল ও অভিমন্যু মণ্ডল। অভিমন্যু মণ্ডল ১৯৫৮ সালে মারা যান। এ অবস্থায় মৃত ভাইয়ের স্ত্রী (গৌরী দাস) কৃষিজমি পাবেন না, শুধু বসতভিটা থেকে অর্ধেক পাবেন- এমন দাবি নিয়ে ১৯৮৩ সালে নিম্ন আদালতে মামলা করেন জ্যোতিন্দ্রনাথ। মামলা যথাযথভাবে না করায় ১৯৯৬ সালে তা খারিজ করে দেয় আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে খুলনার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন জ্যোতিন্দ্রনাথ। আদালত ২০০৪ সালের ৭ মার্চ রায় দেয়। রায়ে বসতভিটা ও কৃষিজমিতে গৌরী দাসীর অধিকার থাকবে উল্লেখ করা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালেই হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন জ্যোতিন্দ্রনাথসহ অন্যরা।

গত সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টের রায় হয়েছে। রায়ে বলা হয়, ১৯৩৭ সালের আইনের ৩(১) ধারা অনুসারে বাবার আগে মারা যাওয়া ছেলের মতোই বিধবা গৌরী তার শ্বশুরের রেখে যাওয়া সব সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। এই রায় আগামীতে স্বামীর সম্পত্তিতে বিধবার অধিকারকে আরো জোরালোভাবে আইনি সমর্থন জোগাবে। সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রশ্নে হিন্দু বিধবা নারীরা অনেকটা শঙ্কামুক্ত হলেন। এখানে না বললেই নয় যে, আইন করাটাই মুখ্য নয়। তাকে প্রতিষ্ঠা দেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র তা করবে- এটাই আমাদের বিশ্বাস।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close