reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে অবশেষে ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালা খুলেছে। এখন শিক্ষার্থীরা আনন্দে আত্মহারা। তবে এমন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলল যখন করোনা সংক্রমণ হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তাই শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা নিয়ে মতামত প্রদান করেছেন রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী। মতামত সংগ্রহ করেছেন অত্র প্রতিষ্ঠানেরই স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহ্ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে

করোনাকাল এখনো শেষ হয়নি। এখনো দৈনিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। গত দেড় বছরের অধিক সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দীর্ঘ এই বন্ধকালীন শিক্ষা খাত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানুষিক অবস্থাও ছিল করুণ। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখনো যেহেতু দেশে করোনা শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্য তাই শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। একজন শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানল কি না তা অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মু. আব্দুল্লাহ জুবায়ের

দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা।

আত্মসচেতন হতে হবে

গত বছর ১৭ মার্চ দেশে প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। সরকার বেশ কয়েক দফায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে বিবেচনা করলেও দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। বরং দফায় দফায় বন্ধ থাকার মেয়াদ বেড়েছে, এর কারণে আমাদের মাঝে বেড়েছে শিক্ষা বিমুখতা। স্কুল বন্ধ রাখা আমাদের জন্য কোনো সমাধান নয়। তাই করোনার এ ভয়াবহ অবস্থাতেও সরকার ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করেছে গত রবিবার থেকে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু করোনাকাল এখনো কাটেনি। নিত্য অনেক রোগী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সচেতনতার বিকল্প নেই। সবাইকে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন হতে হবে। করোনা থেকে বাঁচতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মানা। স্কুল-কলেজে পাঠদানকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস কন্টিনিউ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নীতিনির্ধারক দ্বারা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

সর্বোপরি, সব শিক্ষার্থীকে আত্মসচেতন হতে হবে। বাহ্যিক কোনো চাপে নয় বরং নিজে থেকেই সচেতন হতে হবে।

শাহ্ বিলিয়া জুলফিকার

তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।

দ্রুত শতভাগ টিকা নিশ্চিত

করুন

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে

মাধ্যমে লাখো শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের

পুষে রাখা মনের আশা পূরণ হয়েছে।

কিন্তু এ কথা বলা বাহুল্য যে, এখনো

টিকা কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সিংহভাগ

শিক্ষার্থীই ১৮ বছরের নিচে হওয়ায়

কেউই টিকা পায়নি।

শিক্ষার্থীরা দেশের আগামী প্রজন্ম। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যেমন

দরকার ছিল একইভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

দিয়ে সব স্তরের শিক্ষার্থীর টিকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে খুশির খবর

এই যে, সরকার এরই মধ্যে ১২ বছর

বয়স হলেই টিকা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। এটি দ্রুত কার্যকর করতে

হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, নীতিনির্ধারক মহলের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা

করতে হবে।

সাইয়াদুর রহমান শাওন

দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।

ফাজিল (অনার্স) তৃতীয় বর্ষ।

নো মাস্ক, নো এন্ট্রি

প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ইউনিফরম আছে। তবে এবারের তালিকায় আরেকটি ইউনিফরম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। আর সেটি হলো মাস্ক। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পড়ে বিদ্যালয়ে আসা বাধ্যতামূলক করতে

হবে। পূর্বে যেমন প্রতিষ্ঠানে পড়ে না

আসলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো তেমন এবার মাস্ক পড়ে না আসলে শাস্তি

বরাদ্দ করতে হবে। এখনো করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দৈনিক মৃত্যু ও শনাক্তের হার এখনো আশঙ্কাজনক। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। টিকা নেওয়ার পরও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অন্যতম উপকরণ হলো মাস্ক। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণই মাস্ক পড়ার প্রতি উদাসীন। এই তালিকায় শিক্ষার্থীরাও আছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

মুহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ

দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মার্দাসা, ডেমরা, ঢাকা।

ফাজিল (স্নাতক) দ্বিতীয় বর্ষ।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close