গাজী ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ
মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার পানিতে নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তাছাড়াও জেলার প্রতিটি খাল-বিল বর্ষা ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হচ্ছে এ সব এলাকার অভাবী মানুষরা তাদের জীবন-জীবিকার জন্য এ সময় বেছে নেয় অন্য পেশা। মাছ ধরার এক প্রকার যন্ত্র যার নাম দারকি। আবার কেউ কেউ স্থানীয় ভাষায় ধুন্দি বা চাঁই বলে থাকে। যে নামেই ডাকুক না কেন মাছ ধরার সেই যন্ত্র তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বাঁশ ও তালের আঁশ দিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে চলেছেন।
এ অঞ্চলের তৈরি দারকি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছীর হাট, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ হাট, গুল্টা হাট, সলঙ্গা হাট, চাটমোহর, ছাইকোলা হাট, মির্জাপুর হাট ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা নাটোরের গুরুদাসপুর হাট, চাচকৈড় হাটসহ অন্যান্য হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। এসব হাটে পাইকারি ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয় হয় দারকি। দারকি ব্যবসায়ী অনীল কুমার জানান, তাদের দাদার আমল থেকেই তারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত। অনেকেই নতুন করে জড়িয়ে পড়ছে এই পেশায়। তাই দিন দিন এর সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছেই।
দারকি বিক্রি করতে আসা পাবনার ভাঙ্গুড়া থানার করতকান্দি গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, তারা প্রথমে বাঁশ চিরে খিল তুলে চিকন করে। সেগুলো শুকিয়ে নেওয়া হয় হালকা রোদে। পচানো তালের ডাগুরের আঁশ দিয়ে খিল বাধা হয়। এসব কাজে গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরাও পরিবারকে সহায়তা করে থাকে।
গুরুদাসপুর উপজেলার চাচকৈড় গ্রামের সুজন কর্মকার জানান, তার গ্রামের প্রায় আড়াইশ পরিবার দারকি তৈরির কাজে জড়িত। আর আকারভেদে প্রতি জোড়া দারকির দাম ৬ থেকে ১ হাজার টাকা। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি। আকারের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় দাম। এক জোড়া দারকি তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দু-তিন দিন। উপকরণ বাবদ খরচ হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। দারকি ক্রেতা রকিব জানান, এ বছর
চলনবিলে পানি আসতে শুরু করার প্রথম থেকেই বিভিন্ন মাঠ ডুবে গেছে। তাদের ফসলি ক্ষেতে কাজ না থাকায় জীবনযুদ্ধে খেটে খাওয়া মানুষগুলো হারতে নারাজ। তাই বর্ষাও পানিতে মাছ ধরার জন্য দারকি ক্রয় করছে অনেকেই। তারা দারকি দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সুন্দরভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে এই সব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক দেবাশীষ ঘোষ বলেন, অতি সম্প্রতি বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে নিম্নাঞ্চল, খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত এলাকায় দেশীয় মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। জেলে ও শৌখিন মাছ শিকারিরা নিত্যদিনই মাছ ধরে চলেছেন। দেশীয় মাছ ধরার সরঞ্চাম (দারকি) তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় কিছুটা নতুন গাতি এসেছে।
"








































