মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুর সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের খেলা দেখার সময় বসার স্থান এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় সাত সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টায় খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্?বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। ?এ সময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবদুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টায় প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। রাত ৩টায় প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
?মঙ্গলবার গভীর রাতে আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। এ সময় তারা আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরো বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশনায় ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
?বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, গত ৭ জুলাই রাতে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে পরিসংখ্যান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নিরূপণের জন্যই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
?প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্?বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা মাঠে থেকে রাতভর কাজ করেন। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করেন। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুসসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
?ঘটনার পর গতকাল বুধবার ভোর প্রায় ৩টার দিকে আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, সহকারী প্রক্টররা এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
"







































