নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড়ছে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের ভাতা

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে বিশেষ ভাতা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার মাসে ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের পরিবার ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের পরিবার ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা অপরিবর্তিত রেখে ২০ হাজার টাকা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর সন্তানদের অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার তাদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ভাতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ভাতা ও সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব। আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। একইহারে ভাতা পাবেন গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরির জুলাই যোদ্ধারা। ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুধু ভাতাই নয়, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ করসুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ করদাতাদের তুলনায় তাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেশের ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।
"







































