আহমেদ রেজওয়ান, ফেনী
কৃষি উদ্যোগ
১০২ জাতের আমের বাগান

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকার ফেনী নদীর তীরঘেঁষে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী কৃষি উদ্যোগ ‘সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স’। প্রায় ৬৫ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রয়েছে ১০২ জাতের আম। ফলে এটি এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।
সরেজমিনে সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল বাগানজুড়ে ঝুলছে নানা রঙের বিভিন্ন জাতের আম। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ, আবার কোথাও লালচে আভাযুক্ত আম দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
বাগানের স্বত্বাধিকারী মেজর (অব.) মোহাম্মদ সোলায়মান জানান, ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে কৃষি, মৎস্যচাষ, গবাদিপশু পালন, মধু উৎপাদন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা এবং ফলচাষ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর ১৯৯২ সালে মাত্র তিন লাখ টাকা পুঁজি এবং ছয় একর জমি নিয়ে শুরু করেন কৃষি খামার। বর্তমানে সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে ৬৫ একরের সমন্বিত কৃষি প্রকল্পে।
আমের বিভিন্ন জাত সম্পর্কে তিনি বলেন, সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর আমের বৈচিত্র্য। দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর ও রংপুরের জনপ্রিয় প্রায় সব জাতের আম রয়েছে এখানে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের বিভিন্ন প্রজাতির আমও চাষ করা হয়েছে এই খামারে। ফলে এক বাগানেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আমের সমাহার দেখতে পান দর্শনার্থীরা।
খামারের কর্মকর্তারা জানান, এ বাগানে সারা বছরই বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ফল উৎপাদনে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও এই খামারের বিশেষত্ব হলো, এখানে আম চাষে জৈব পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খামার মালিকের দাবি, আমের মুকুল আসার আগে প্রয়োজনীয় একটি পর্যায়ে সীমিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হলেও সারা বছর গাছে ব্যবহার করা হয় জৈবসার। পাশাপাশি আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফলকে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। এ কারণে খামারের আমকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন ক্রেতারা। ফলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করার প্রয়োজন হয় না। ক্রেতারাই সরাসরি খামারে এসে আম সংগ্রহ করেন।
৬৫ একরের এই বাগানে রয়েছে প্রায় ছয় হাজার আমগাছ। প্রতিটি গাছে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জাতের আম। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন এই বাগানে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, আবার কেউ নিরাপদ ও সুস্বাদু আম কিনতে আসেন।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে কুরিয়ার সার্ভিসে আম সংগ্রহ করছেন। সাধারণ জাতের আম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছু বিশেষ জাতের আমের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিক উল্যাহ বলেন, সোয়াস এগ্রোতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জৈবিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এখানে আম উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বাগানের উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
"






































