প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

‘পৃথিবীর ফুসফুসে’ রেলপথ!

আমাজন জঙ্গল শুধু পৃথিবীর বৃহত্তম বনাঞ্চলই নয়; জীববৈচিত্র্যের ঘনত্বের বিচারেও শীর্ষ অবস্থানে আছে এই বনাঞ্চল। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বছরের পুরোনো এই জঙ্গলের মাঝ দিয়েই বয়ে গেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। কিন্তু পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন

উজাড় হচ্ছে। বনাঞ্চল কেটে তৈরি হচ্ছে হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মুখর পরিবেশবীদরা। তারা বলছেন, শিল্প কলকারখানা, যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা অজুহাতে ধ্বংস করা হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন। অতীতের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে এই বৃক্ষ নিধন।

প্রতি বছরই দাবনলে পুড়ে ছাই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট আমাজনের হাজার হাজার একর এলাকা। এরপরও থেমে নেই অবৈধ উপায়ে বৃক্ষ নিধন। এবার এই বনের মধ্য দিয়ে রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। বলা হচ্ছে ইতাইতুরা থেকে মাতো গ্রোসো অঞ্চল পর্যন্ত তৈরি করা হবে ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই যোগাযোগ পথ। পরিবেশবিদরা বলছেন, বন উজারের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে সরকারি নানা প্রকল্পকে।

ব্রাজিলীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আনে অ্যালেনকার বলেন, মূলত আমাজন বনকে দুইটি কারণে উজার করে ফেলা হচ্ছে। প্রথমত, এখানকার জায়গার দাম বেশি পাওয়ার জন্য গাছ কেটে জমিতে পরিণত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন সড়ক ব্যবস্থার জন্য কাটা হচ্ছে গাছ। প্রশ্ন তুলে এই পরিবেশবিদ বলেন, বনদস্যুদের জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে?

তবে রেল প্রকল্প প্রতিনিধিরা বলছেন, দেশের উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাড়ানো হয়েছে শিল্প কলকারখানার পরিধিও। দেশটির মাতো গ্রোসো অঞ্চলের গভর্নর মাউরো মেন্ডেস বলেন, আগমী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বে আরো ২০ ভাগ খাবারের চাহিদা বাড়বে। চাইলে খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণ করতে পারবে শুধু ব্রাজিলই। সেই লক্ষ্য নিয়েই সামনে এগোতে হবে। তথ্য বলছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারের ক্ষমতা গ্রহণের পর বছরে গড়ে বৃক্ষ নিধন হয়েছে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার। যা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছিল সাড়ে ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close