প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০১ মার্চ, ২০২১

জাটকা রক্ষা

ছয় জেলায় দুই মাস বন্ধ মাছ ধরা

জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনাসহ দেশের ছয় জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে দুই মাস। আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ছয়টি জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। গতকাল রবিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। এ সময় জেলে পরিবারগুলোকে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

এদিকে, নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জাল, নৌকা নিয়ে নদীতে না নামতে গত শনিবার থেকে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক টাস্কফোর্স।

------
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে। চাঁদপুর, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, শরীয়তপুর জেলায় এ পাঁচটি অভয়াশ্রমের অবস্থান। জাটকা সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতি বছর এই সময় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা না মানলে শাস্তির বিধান রয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই সময়ের মধ্যে জাটকা ধরা, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় বা মজুদ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এসবের তোয়াক্কা না করে জেলেরা নদীতে জাটকা নিধন অব্যাহত রেখেছে। রাতভর জাটকা ধরার পর মহাজনরা তা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রীবাহী লঞ্চে তুলে দিচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে তা চাপিলা মাছ হিসেবে আবার কোনো কোনো বাজারে জাটকা হিসেবেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে গত কয়েক বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। তবে মৎস্য অধিদপ্তর ও ইলিশ গবেষকরা বলে আসছেন, ইলিশের উৎপাদন হ্রাসে অন্যতম কারণ নির্বিচারে জাটকা নিধন। সাধারণভাবে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের অপরিণত ইলিশ জাটকা নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘মা ইলিশ যে পরিমাণ ডিম ছাড়ে, তার ৫০ ভাগ নিষিক্ত হয়। তাও রক্ষা করতে পারলে আনুমানিক ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি জাটকা ইলিশে রূপান্তর হবে। তারা প্রতি দুই মৌসুম পরপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, অন্তত ১২ হাজার টন জাটকা ইলিশে রূপান্তরের আগেই নষ্ট করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি মৌসুমে অন্তত ছয় হাজার টন জাটকা নষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ তা নিধন করা হচ্ছে এবং এর কিছু কিছু নানা কারণে নষ্ট হচ্ছে। জাটকার এই নিধন থামাতে না পারলে ইলিশ উৎপাদনে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না।’

ঢাকার বিভিন্ন বড় মাছ বাজার ঘুরে ব্যাপকভাবে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি কোস্টগার্ড বাহিনীর দুটি অভিযানেও জাটকা নিধনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য গত বছরের ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। এরপরই জাটকা ধরা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। জাটকা নিধন বন্ধে অধিদপ্তর থেকে নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাটকা নিধনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে তারা নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাটকা নিধন বন্ধ করতে নদীতে অভিযানের পাশাপাশি জাটকার ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত বেহুন্দি (বিশেষ ধরনের জাল) অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

এরই মধ্যে দুই মাসের অভয়াশ্রম অভিযান সফল করার জন্য চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি বলেন, ‘জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় তালিকাভুক্ত ৫১ হাজার ১৯০ জন জেলে রয়েছেন। এসব জেলেকে জাটকা নিধন থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী উপকূলীয় এলাকায় সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও মৎস্য আড়তগুলোর সামনে ব্যানার সাঁটানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মার্চ ও এপ্রিলে ওই দুই নদীতে যাতে কেউ জাল ফেলে মাছ ধরতে না পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় অভিযান চালানো হবে। মৎস্য কার্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড একক বা যৌথভাবে এসব অভিযান চালাবে। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে মেঘনা ও পদ্মায় কেউ জাল ফেলে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করা হবে জেল-জরিমানা। যেকোনো মূল্যে মেঘনায় জাটকা রক্ষার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘জেলায় ৫২ হাজার তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন। এসব জেলেকে জাটকাসহ সব ধরনের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য এরই মধ্যে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। নদী উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। জেলেপাড়ায় লিফলেট বিতরণ ও আড়তগুলোয় ব্যানার টানানো হয়েছে।’

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close