চট্টগ্রাম কাস্টমসে ৪১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

আবুল খায়ের গ্রুপ শীর্ষে

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ব্যুরো

করোনার এই দুঃসময়েও চট্টগ্রাম কাস্টমস ৪১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। যা ইতিবাচক বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানি আবুল খায়ের গ্রুপ রেকর্ড ৭৫০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে শীর্ষে আছে। সরকারি তেল কোম্পানি বাংলাদেশ অয়েল গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওপরে আছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারা বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক মন্দায় জর্জরিত তখন চট্টগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায়ে গত বছরের চেয়ে মাত্র ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে। করোনার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস নামবে বলে অনেকে ধারণা করলেও চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস সবকিছু সফলভাবে হ্যান্ডলিং করায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন অর্থনৈতিক মন্দায় আছে। আমরাও মন্দা মোকাবিলা করছি। করোনাকালে চট্টগ্রাম কাস্টমসের আশাতিত এ সাফল্য আমাদের অর্থনীতির জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের কর্মদক্ষতা দিয়ে আমদানি-রফতানি কন্টেইনার সফলতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করেছে। বন্দরে যাতে জট সৃষ্টি না হয়, তার জন্য সচেষ্ট ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। বিশ্ব বাজারে তেলসহ প্রায় সব সেক্টরে মন্দা চলছে। করোনার কারণে বিল অব এন্ট্রি, শুল্কায়নসহ নানা কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা সক্রিয় ছিল। আবুল খায়ের গ্রুপ ৭৫০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে শীর্ষে রয়েছে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, দেশের সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে সরকারি তেল সেক্টর সব সময় বড় ভূমিকা রাখে। বেসরকারিভাবে ১২ থেকে ১৩টি কোম্পানি রয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে চট্টগ্রামের আবুল খায়ের গ্রুপের। এ গ্রুপের সিমেন্ট, গুঁড়া দুধ, চা, ঢেউটিন, সিরামিক, স্টিল ও রড, টোব্যাকোর বাজার রয়েছে দেশজুড়ে। করোনাকালে আমদানি-রফতানিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো করোনার এ দুঃসময়ে ৭৫০ কোটি টাকার রাজস্ব জোগান দিয়েছে। আবুল খায়ের গ্রুপের পরে উত্তরা মোটরস, বসুন্ধরা গ্রুপ, ওয়ালটন, টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, হোন্ডা, মেনোকা মোটরস, হোন্ডা কোম্পানি, লিভার ব্রাদার্স, স্কয়ার গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে ছিল ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। এ টাকা পরে কমিয়ে ৫৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা করা হয়। এনবিআর শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে তা হলো ১১ মাসের লক্ষ্যমাত্রা। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত শুল্ক আদায়ের ওপর নির্ভর করে সবকিছু। সেই হিসাবে সরকারের টার্গেট ছিল ১১ মাসে ৫৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতে চীনে করোনা মহামারি আঘাত হানলে চীনের দরজা বন্ধ হতে থাকে। দেশের আমদানিকারকদের বড় বাজার হচ্ছে চীন। চীন থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর দেখা যায় মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। মার্চের পরে মূলত দেশের আমদানি-রফতানিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধস নামে। তারপরও জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

"