অলোক আচার্য

  ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মায়ায় জড়ানো বাংলা ভাষা

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই ভাষা আছে। আবার অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। মাতৃভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মানে একটি জাতির স্বাধীন অস্তিত্ত্বের মৃত্যু। তোমরা জানো, আমাদের ভাষা বাংলা। মানে আমরা বাংলায় কথা বলি। একবার ভাবো, যদি আমরা বাংলায় কথা না বলতে পারতাম তাহলে কি হতো! ভাষাহীন মানুষ প্রাণীর মতোই বোবা হয়। সেই জন্মের পর থেকেই আমরা মা ডাকতে শিখি। মা ডাকের মতো এত মধুর শব্দ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। মা’র সঙ্গে তুলনা করারও আর কেউ নেই। মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি এই তিনের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষা অন্যতম।

পৃথিবীতে ভাষা হিসেবে বাংলার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। পৃথিবীতে প্রায় ২৮ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলে। ভাষার অবস্থানের দিক থেকে বাংলা ৭ম। তোমরা বুঝতেই পারছো, বাংলা ভাষা শুধু আমাদের দেশেই বলা হয় না। ভারতের কয়েকটি রাজ্যেও বাংলা ভাষায় কথা বলে। তবে বাংলাদেশের মানুষ বাংলাকে ভাষা হিসেবে পেতে বুকের রক্ত দিতে হয়েছিল। কারণ পাকিস্তানীরা চায়নি বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হোক। তারা চেয়েছিল উর্দু ভাষায় আমরা কথা বলি। আমাদের উপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। অথচ বাংলা ভাষায় তখন কথা বলতো পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ। বাংলার মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না এটা। তারা রাস্তায় নেমে এসেছিল। গর্জে উঠেছিল শাসকের অস্ত্রের বিরুদ্ধে।

শুরু হলো সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার। এভাবে চলতে চলতে ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ এলো। আর দশটা তারিখের মতো সাধারণ মনে হলেও এই দিনটা হলো আমাদের ইতিহাসের অংশ। সেদিন পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতা সেই ১৪৪ ধারা মানলো না। মানবে কেন? পেশী শক্তির কাছে হার মানার ইতিহাস তো বাঙালির রক্তে নেই। তাই সেদিন নিজের মাতৃভাষা রক্ষার কঠিন শপথে ছাত্র-জনতা এক হয়ে রাজপথে নামলো। মিছিলে মিছিলে ভরে গেল রাজপথ। সরকার বিপদ আঁচ করতে পারলো। নিরস্ত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালালো। সেই গুলিতে প্রাণ হারালো সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অসংখ্যজন। রক্তে রক্তে ভেসে গেলো রাজপথ। তারপর লেখা হলো বাঙালির ভাষার সংগ্রামের ইতিহাস। মা- ডাকটি তারপর থেকে নিরাপদ হলো।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়