অতিষ্ট জনজীবন

রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:২৪ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২২

রাজধানীতে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। আর এসকল কুকুরের অত্যাচারে বিপদে আছে রাজধানীবাসী। দিনের বেলায় যেমন তেমন রাত হলেই কুকুরের চিৎকারে অতিষ্ট জনজীবন। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুকুরের উৎপাত দেখা গেছে।

রাজধানীর মিরপুর, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মগবাজার, নয়াটোলা, সিদ্ধেশ্বরী, মিরবাগ, রামপুরা, বাড্ডার মতো জনবহুল এলাকায় বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের ছড়াছড়ি।

জানা গেছে, বেওয়ারিশ কুকুরের অত্যাচারে বেশি সমস্যায় আছেন স্বল্প আয়ের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষজন। বিশেষ করে যারা টিনশেড বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিদিনই কুকুরের অত্যাচার সহ্য করতে হয় তাদের। সময়-অসময়ে ঘরে ঢুকে পড়ে রান্না করা খাবার খেয়ে ফেলে। এছাড়া চলতি পথে মানুষকে কামড়ে দেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

যদিও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের কাজ বন্ধ রয়েছে। এদিকে কুকুর উপদ্রব রোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিশেষ প্রকল্পের আওতায় কুকুরকে বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা আপেল আকবর জানান, বেওয়ারিশ কুকুরের অত্যাচারে আতঙ্কে রয়েছেন তারা। একদিকে কামড়ানোর আশঙ্কা অন্যদিকে খাবার নষ্ট করাসহ রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ কুকুর দলের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে তাদের।

তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বেওয়ারিশ কুকুরের বংশ বিস্তার ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে হয়তো কুকুর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে জনবল বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং যারা এসব কুকুরের বংশ বিস্তার রোধে কাজ করবে তাদের বিদেশ থেকে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কুকুর নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি সফলতা আসবে না।

অন্যদিকে ২০১২ সালে উচ্চ আদালত কুকুর নিধনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির পর ওই বছরের মার্চে ‘অভয়ারণ্য’নামে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে চুক্তি করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ওই বছর ১ এপ্রিল তারা কার্যক্রম শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী কুকুরের বংশ বিস্তার রোধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে ওই এনজিওটিকে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন।