অনলাইন ডেস্ক
  ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

সাইক্লিক অর্ডারে মূল্যবৃদ্ধির পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে

চাল, ডাল, নুন, তেল, মাছ, মাংস ও চিনি। ভোগ্যপণ্য তালিকায় এদের বসবাস। আমাদের ক্ষুধা নিবৃত্তে এদের কোনো বিকল্প নেই। এরাই নিকট স্বজন। এদের অনুপস্থিতি বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এই বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। তবে, এসব পণ্য কখনোই আমাদের কষ্ট দিতে চায় না। কষ্টের জন্ম দেয় সমাজের কিছু নিকৃষ্ট মানুষ। তাদের কালো হাতের ছোঁয়ায় ওপরের দিকে উঠতে থাকে পণ্যের দাম। চলে যায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আজ যেন বিষয়টি নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যাটার্নটার পরিবর্তন লক্ষণীয়। তারা যেন এক-দুই পণ্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে নারাজ। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের ওপরেও আটকে থাকতে চাইছেন না। উদ্ভূত কারণে ফর্মূলায় পরিবর্তন এসেছে। চলতে চাইছেন সাইক্লিক অর্ডারে। বছরের কোনো মাসই খালি হাতে ফিরবে না। প্রতি মাসেই কোনো না কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে আর বাড়বে সমাজে বসবাসরত মানুষের হতাশা।

প্রথমে বাড়ল আলু ও সবজির দাম। তারপর এলো পেঁয়াজ। পেঁয়াজের পেছন পেছনে উঠে এলো চালের দাম। তারপর বাড়ল সয়াবিন তেল। এবার চিনির ওপর নেমে এলো বর্গিদের হামলা। তথ্য মতে, খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি খোলা চিনি চার-পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৬৮ টাকায়। চিনির আগে বেড়েছিল চালের দাম। চাল আমদানির ঘোষণা হলেও এখনো বাজার থেকে তার তাপ সরেনি। তবে হঠাৎ করে ভারত তার রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির কারণে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কমেছে। অপরিকল্পিত এই আমদানির সার্বিক ফলাফলে দেশীয় উৎপাদন হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার ৭ জানুয়ারি পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এরপর পণ্যটির দরপতন থেমেছে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। সয়াবিন তেলের দাম এখনো কমেনি।

বাজারের দিকে তাকালে মনে হতেই পারে, এখানে যেন কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। কেন নেই? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলে দুটি কারণকে মুখ্য বলে মনে হয়। এক. সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মতো ক্ষমতা এবং যোগ্যতার অভাব। দুই. সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আমরা মনে করি, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষমতা যখন আছে, তখন সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষমতাও আমাদের আছে। নেই শুধু আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার অভাব। আর এই সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব দূর করার জন্য প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্তই হতে পারে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার চাবিকাঠি। যত দিন না এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তত দিন পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও ঠেকানো সম্ভব নয়।

এ ছাড়া আরো একটি কারণ উল্লেখ করতেই হয়। বাজারকে একচেটিয়াভাবে দখলে রাখার প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে এক বা একাধিক সিন্ডিকেট এ কাজ করে থাকে। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরেই নির্ভর করে পণ্যের ওঠানামা। এখান থেকে বেরিয়ে আসাটাই হতে পারে বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম হাতিয়ার। আর এ কাজে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনাসহ অগ্রণী ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই। যে পরিকল্পনায় থাকবে চহিদা ও জোগানের সমান্তরাল সম্পর্ক। আমরা সেদিনের প্রতীক্ষায় রইলাম।

পিডিএসও/ জিজাক

মূল্যবৃদ্ধি,সাইক্লিক অর্ডার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close