reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২ ঘণ্টা আগে

চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ

প্রতারক চক্রের হোতা মির্জা আবুল বাশার গ্রেপ্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের হোতা মির্জা আবুল বাশারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

টানা ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে শনিবার(২০ জুন) দুপুরে গুলশান-১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও আবুল বাশার বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াতেন।

পরে গুলশান থানা-পুলিশ গোপন সংবাদে জানতে পারে, আসামি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে গুলশান থানা-পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে শনিবার বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গুলশান থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুকৌশলে প্রতারণার জাল বিছিয়ে আসছিলেন। তিনি চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি ও পশুর হাটে প্রতারণাসহ বহুমাত্রিক প্রতারণা করে আসছিলেন।

পুলিশের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, প্রায় ১০-১১ মাস আগেও গুলশান থানা-পুলিশের একটি অভিযানে আবুল বাশারের হেফাজত থেকে দুটি চোরাই ও প্রতারণামূলক গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরে ভাটারা থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

ওই বাসায় অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন গুলশান থানার ওসি (অপারেশনস) মো. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা মির্জা বাশারকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ এবং অনেক লোকজনও তাঁর সন্ধান করছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় একটি মামলার বাদীকে নিয়ে গতকাল রাত থেকে আমরা এখানে অভিযান পরিচালনা করি। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি এই বাসায় অবস্থান করছেন। এরপর বাসার একজন ম্যানেজার, বাশারের অফিসের একজন স্টাফকে নিয়ে এই বাসায় তাকে আমরা খুঁজতে থাকি, কিন্তু তাকে না পেয়ে আমার অফিসাররা হতাশ হয়ে পড়েন। পরে বাসার বাথরুমের একটি সুড়ঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পটুয়াখালীর ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিয়াপুরের ফখরুল ইসলামের বড় ছেলে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। এর আগে গত বছর অক্টোবরেও একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল গুলশান থানা-পুলিশ।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়