নকল এনআইডি তৈরিসহ নানা অনিয়ম

ইসির মাঠ অফিসে অভিযান শুরু আজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার সব থানা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। থানা নির্বাচন অফিসগুলোতে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ায় ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া নকল এনআইডি তৈরি এবং এটাকে কাজে লাগিয়ে ঋণ নেওয়ার ঘটনায় তদন্তের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এই কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগ (এনআইডি) এবং আইডিয়া প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে গতকাল সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনআইডির মহাপরিচালক ও আইডিইএ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রি. জে. সাইদুল ইসলাম।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর প্রতিটি থানা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা প্রদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালাতে চাইছে ইসি। পরে সারা দেশে সব নির্বাচন অফিসে এই অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া কমিশনের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবার মান বাড়াতে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, সভায় গুলশান ও সবুজবাগ থানা নির্বাচন অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের জাল এনআইডি তৈরির ও জাল এনআইডির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার ঘটনা তদন্তে এনআইডির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনআইডি উইংয়ের অপারেশন শাখা, আইটি বিভাগ এবং প্রজেক্টের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনআইডি বানানো সন্দেহভাজন এমন ১৭টি এনআইডি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, আইডিইএ প্রকল্পের ১১৩০ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সারা দেশে বিভিন্ন থানা/উপজেলা/আঞ্চলিক নির্বাচন ও প্রকল্প কার্যালয়ে কর্মরত। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, বিতরণ ও ভোটার রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি ও অন্যান্য দাফতরিক কাজ করে থাকেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, এনআইডির তথ্য-উপাত্ত বিকৃতি বা নষ্ট করলে এমন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড রয়েছে।

কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করলে অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড রয়েছে আইনে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই হাজার বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল