আল্লাহর কাছে মোমিনকে পুরস্কৃত করার মাস

প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ০৩:৪৪

মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান

আজ শুক্রবার, পবিত্র মাহে রমজান ও রহমতের দশকের অষ্টম দিন এবং দ্বিতীয় জুমা। রমজান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মোমিন বান্দাকে পুরস্কৃত করার মাস। এ মাসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য বলার অপেক্ষা রাখে না। এ মাস আল্লাহ তায়ালার অধিক থেকে অধিকতর নৈকট্য লাভের উত্তম সময়, পরকালীন পাথেয় অর্জনের উৎকৃষ্ট মৌসুম। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার ও আত্মশুদ্ধির ভরা বসন্ত। তিনি এই মাসের প্রতিটি দিবস-রজনিতে দান করেছেন মুষলধারা বৃষ্টির মতো অশেষ খায়ের-বরকত এবং অফুরন্ত কল্যাণ। মোমিনের কর্তব্য, এই মহা নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত হওয়া এবং এর কদর করা। তাইতো এ মাসের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি আর মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মোমিনরা এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মোমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৮৩৬৮; সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস নং-১৮৮৪)। এ মাসের প্রধান আমলই হলো, রোজা রাখা। মুসলিম উম্মাহর কাছে রমজানের আগমন ঘটে প্রধানত রোজা ও তারাবির বার্তা নিয়ে। এবং এটিই হলো, রমজানের বিশেষ আমল। অতএব প্রত্যেক মোমিনের কর্তব্য হলো, পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই দুই বিষয়ে যত্নবান হওয়া।

রোজার ফজিলত : আল্লাহ তায়ালা বলেন, রোজার বিষয়টা আলাদা। কেননা তা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং-৭০৫৪)।

হজরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররা বেহেশতে প্রবেশ করবেন। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, শপথ সেই সত্ত্বার যার হাতে রয়েছে মুহাম্মদের প্রাণ, রোজাদারের মুখের (পানাহার বর্জনজনিত) গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মিশকের সুগন্ধীর চেয়েও অধিক সুগন্ধীময়। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং-১৮০৫)।

রমজান মাসের চাঁদ উদিত হলেই প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ পুরুষ এবং হায়েজ নেফাজমুক্ত (মাসিক ও সন্তান হওয়ার পরের রক্তস্রাব) প্রাপ্তবয়স্কা নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ। হাদিসে এসেছে ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ব্যতিরেকে রমজানের একটি রোজাও পরিত্যাগ করবে সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবুও ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং-৭২৩)।

"