আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর
চার বছরেও শেষ হয়নি দুটি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ

রংপুরে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণকাজ চলছে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যালয় দুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। তিন বছরের কাজ চার বছরেও শেষ না হওয়াতে এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নির্মাণাধীন দুটি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও অন্যটি শেষ করতে আরও বছরখানেক সময় পেরিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো রেডিও সেন্টার এলাকায় বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ এখনো অসমাপ্ত। ভবনের প্লাস্টার, রঙ ও জানালার গ্রিল লাগানোর কাজও বাকি। বোতলাপাড়ায় নির্মাণকাজ শেষ হলেও রঙ ও অন্যান্য কাজ এখনো শেষ হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রংপুরে দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয় ২০১৮ সালে।
রংপুর নগরীর উত্তম মৌজার হাজীপাড়া পুরোনো রেডিও সেন্টারে ও কামাল কাছনা মৌজার বোতলায় বিদ্যালয় দুটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর ঠিকাদার পাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেসরকারি স্কুলে বেতন দিয়ে সন্তানদের পড়ালেখা করানো ভীষণ কষ্টকর। রংপুরে মাত্র সরকারি একটি বালিকা ও একটি বালক স্কুল। যেখানে আসন সংখ্যাও সীমিত। এরপর ২০২১ সালের আগস্টে ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে ২০২২ সালের মার্চে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এসএসএল-এসই-এমএ জেভি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ওই বছরের ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় নির্মাণকাজ। ২৩ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪৩২ টাকা করে ব্যয়ে ১০ তলা ভবন বিশিষ্ট বিদ্যালয় দুটির কাজ শুরুর দিন থেকে তিন বছরে (৩৬ মাস) শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় কিন্তু সবার আশা পূরণ হয় না। আমার মতো শত শত অভিভাবক চান, রংপুরে যে দুটি বিদ্যালয় হওয়ার খবর আমরা শুনেছি তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। মেডিকেল মোড় জেলগেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হামিদা আফরোজ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আসন সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার এই দুটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বাচ্চাকে সরকারি স্কুলে পড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু নতুন দুটি স্কুল চালু না হওয়ায় সেটা আর সম্ভব হলো না। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে যেন বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তিনি বলেন, রংপুরে সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। নতুন এই দুটি স্কুল চালু হলে আসন সংকট অনেকটাই কেটে যেত। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও স্কুল দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হবে না। বেতারপাড়া স্কুলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ জানান, ঠিকমতো কাজ করলে আরও ছয়মাস সময় লাগবে।
কাজের বিলম্বের কথা স্বীকার করে রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন বলেন, করোনা মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মালামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। বোতলাপাড়ার স্কুলটি আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কাজ শেষ হলে নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষকের কাছে ভবন হস্তান্তর করা হবে। আর অন্যটির কাজ শেষ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগতে পারে।
সময় বাড়লেও নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না জানিয়ে রতীশ চন্দ্র সেন আরও বলেন, কাজ শেষে প্রধান শিক্ষকের কাছে ভবন হস্তান্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।









































