বেনাপোল প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য, শার্শায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে হরেক রকম বেকারি খাদ্যপণ্য। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উৎপাদিত এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় ছোট-বড় হাজারো মানুষ।

ক্ষতিকর রাসায়নিক ও মাছিভনভন পরিবেশ

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর বড়কলোনির মোড়ের পাশে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতর ‘রিয়াদ ফুড’ নামক বেকারিতে বিস্কুট, রুটি, কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই জনবসতিপূর্ণ এই বাড়িটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক (কেমিক্য়াল), কৃত্রিম রং ও নিম্নমানের পাম তেল। কারখানার শ্রমিকেরা বিশেষ পোশাক ছাড়াই নোংরা ও খালি গায়ে খাবার তৈরি করছেন। আটা-ময়দা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে অপরিষ্কার ও পোড়া কড়াইয়ে। ডালডা দিয়ে তৈরি ক্রিম রাখার পাত্রগুলোতে কোনো ঢাকনা নেই; সেগুলোর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভনভন করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই মোড়কজাত করে এসব পাউরুটি, বনরুটি, কেক ও বিস্কুট বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

'আমি ছোট ব্যবসায়ী, সব আইন মানতে পারছি না'

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াদ ফুডের মালিক মো. খোকন নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “আমি ছোট ব্যবসায়ী, তাই সব আইনকানুন মানতে পারছি না। আপনারা বড় কারখানায় গিয়ে দেখুন, সেখানে অবস্থা আমার চেয়েও খারাপ।”

নজরদারির অভাব ও জনক্ষোভ

স্থানীয় বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে নিয়মিত বাজার ও কারখানা মনিটরিং করা হয় না। স্থানীয় স্যানিটেশন কর্মকর্তার যে আইনি তদারকির দায়িত্ব রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হলে কোনো বেকারির পক্ষে এভাবে জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সম্ভব হতো না। প্রশাসনের এই নজরদারির অভাবই অনিয়মকারীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক শেফালী খাতুন জানান, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রিয়াদ ফুডের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভেজাল রাসায়নিক ও অননুমোদিত রং মিশ্রিত খাবার নিয়মিত খেলে মানুষের লিভার, কিডনি বিকল হওয়াসহ ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি কেবল একটি আইনি অপরাধই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব সামাজিক অপরাধ। সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত এই অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়