গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১ ঘণ্টা আগে

বর্ষার আগমনে নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বর্ষার আগমনে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ও চলনবিলে আসছে বন্যার পানি। নদী ও বিল এলাকার মানুষ বন্যা মোকাবিলায় নতুন নৌকা তৈরি ও পুরোনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের তৈরি ছোট বড় নৌকা বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন হাটবাজারে।

জেলার যমুনা তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলা কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরসহ চলনবিলের অধিকাংশ এলাকাই বন্যাপ্রবণ। ফলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট। তখন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হয় নৌকা। এ সময় নদী ও চলনবিলের মানুষ নৌকা দিয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া যমুনা ও চলনবিলে মাছ শিকারের জন্য ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই বর্ষা মৌসুম আসার আগে থেকেই নৌকা তৈরি ও মেরামতের হিড়িক পড়ে যায়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রানীগ্রাম কাঠমিস্ত্রি আবু সাইদ জানান, দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করছেন তিনি। বাপ-দাদার শিখিয়ে যাওয়া কাজ এখন তাদের নেশা ও পেশা হয়ে গেছে। একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে ১/ ২দিন সময় লাগে। একটা ছোট নৌকা তৈরি করতে কাঠমিস্ত্রিকে দিতে হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা । হাটে এসব ছোট নৌকা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।

কাঠমিস্ত্রি আব্দুস সোবহান জানান, শিশুকালে হাতুড়ি-বাটালের সঙ্গে বড় হয়েছেন তিনি। তার চাচার কাছে শেখা এ পেশাকেই মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি চুক্তিতে বায়নায় নৌকা তৈরি করেন। এতে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি পান। বর্ষার সময় আয়-রোজগার ভালোই হয়।

সিরাজগঞ্জ শহরের রানীগ্রাম এলাকার নৌকা তৈরির অপর কারিগর আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা নৌকা তৈরির কাজ করে থাকি। এক একটি বড় নৌকা তৈরী করতে ২/৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগে । ৩/৪জন মিস্ত্রী ছাড়াও হেলপার লাগে । একটা নৌকা তৈরীতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মুজুররী নেই ।

শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী এলাকার শরীফুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকা বন্যায় প্রবন হওয়ায় প্রতি বছরই ডুবে যায় তাই পরিবারের সদস্যদের পারাপার করার জন্য ছোট নৌকা ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

যমুনা নদী তীরবর্তী শুভগাছা এলাকার জেলে আবু সাইদ বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে তাই নদীতে মাছ শিকারের জন্য ১২ হাত লম্বা একটি নতুন নৌকা তৈরি করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে। তিনি এক কাঠ মিস্ত্রিকে ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে নৌকাটি তৈরি করার কাজ দেন। মাত্র চার দিনে নৌকা তৈরির কাজ শেষ করেছেন সেই মিস্ত্রি।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়