বেনাপোল প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

পুশইন ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বাড়ানো হলো দেড় গুণ বিজিবি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে যাতে কোনভাবে ভারত থেকে পুশইনের ঘটনা না ঘটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।

বুধবার বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি এলাকা ঘুরে বিজিবির জোরদার টহল চোখে পড়ে। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও বিজিবিকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।

এর আগে গত ৩১ মে রাতে বেনাপোলে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্তে জড়ো করা শতাধিক নারী পুরুষকে। পরে বিএসএফ সীমান্তের লাইট নিভিয়ে সাদিপুর খড়ের মাঠ এলাকায় সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস ৬ এর নিকটে ৮/১০ জনকে পুশের চেষ্টা করেন। তবে বিজিবির কঠোর তৎপরতায় পুশইনের ঘটনা সফল হয়নি।

যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির বেনাপোল চেকপোষ্ট আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন জানান, তাদের কাছে খবর রয়েছে পুশইন করতে ওপারে বিএসএফের হোল্ডিং সেন্টার গুলোতে মানুষ জড়ো করা রয়েছে। পুশইন রোধে নতুন নির্দেশনায় আগের চেয়ে সীমান্তে দেড় গুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সাদাপোশাকে বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।

জানা যায়, ভারতের পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে দেশের ২৬ জেলা রয়েছে। এসব সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির সদর দফতর সূত্র জানায়, ২৬ জেলার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। বিজিবির পাশাপাশি আনসার সদস্যও নিয়োগ করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর।

সীমান্ত সূত্র জানায়, পুশইন করার জন্য সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় শিশু, নারী ও পুরুষ জড়ো করছে বিএসএফ। বিএসএফ তাদের পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে আবার কাউকে কাউকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে অধিকাংশ ব্যক্তিকে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা খোলা আকাশে মানবেতর দিন কাটাতে দেখা গেছে।

জানা যায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যে। ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএসএফ কোন নিয়ম নীতি না মেনে ভারতে জন্মগ্রহন ও দীর্ঘ বছর ধরে বসবাসরত অনেকই বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশইনে বেশি তৎপর হতে দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ধরেই বাংলাদেশে ঢোকানো হবে।

বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিজিবি এ বিষয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যদি পুশইন ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদেরকে হস্তান্তর করতে পারেন। আমরা তাদের সাদরে গ্রহণ করবো। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি শক্ত অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়