নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি
কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা আমাদের কাম্য

প্রায় সারা বছরই কোনো না কোনো অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। যার নগ্ন খেসারত দেয় দেশের সাধারণ মানুষ। উপার্জন বাড়ুক কিংবা না বাড়ুক ওইসব নিয়ে ভাবনা নেই কারোর। পরিবারপরিজনদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যেভাবেই হোক ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতেই হয়। এক্ষেত্রে ছলচাতুরির কোনো সুযোগ নেই। আর ছলেবলে এই সুযোগটিই গ্রহণ করে ব্যবসায়ীরা। যারা শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কীভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো যায়। এবারতো মুখ্যম সুযোগ হাতের মুঠোয়। জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার প্রভাবে বাড়াচ্ছে একের পর এক পণ্যের দাম। মানতে দ্বিধা নেই পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়ে থাকে। চাহিদা মতো তেল না পাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। কিন্তু তাই বলে কি পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে, কে দিবে এর জবাব?
বাজারে ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব পড়ছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এ পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। ডলারের দাম, জাহাজ ভাড়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে আমদানি পণ্যে। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও ভোক্তার আয় বাড়েনি। সরকারপ্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নিম্নবিত্ত এ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের কিছুটা মানিয়ে নিতে পারলেও মধ্যবিত্ত সহজে পারে না। মধ্যবিত্তের ট্র্যাজেডি হলো, তারা না পারে নিম্নবিত্তের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে, না পারে উচ্চবিত্তের মতো বাড়তি দামের বোঝা অনায়াসে সইতে। লোকলজ্জার ভয়ে তারা মুখ ফুটে অভাবের কথা বলতে পারে না, আবার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের প্রয়োজনকে কাটছাঁট করতে হয়। টিকে থাকার জন্য অনেককে সঞ্চয় ভেঙে অথবা ঋণ করে চলতে হয়। একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে দেশটির জনগণ কতটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করছে, তার ওপর। মধ্যবিত্তকে কঠিন চাপের মুখে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বলা সংগত, পণ্যের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ কি কেবলই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ? বাস্তবতা হলো, দেশের বাজারব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব অনেক বেশি ও অযৌক্তিক।
বলাবাহুল্য, অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটে সাধারণ মানুষের। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাজার তদারকির কথা বলা হলেও বাস্তবে এর প্রভাব অতি সামান্য। মাঝেমধ্যে কিছু জরিমানা বা অভিযান চালানো হলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা সব সময়ই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মধ্যবিত্ত তথা জনগণকে স্বস্তি দিতে হলে সবার আগে দরকার বাজারের এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করা। এক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন, মজুদদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। দেশে পণ্যের চাহিদা ও মজুদের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ তৈরি না হয়। এটি কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আমরা আশা করি, কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার বিষয়টি সরকার যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, এটাই আমাদের কাম্য।
"





































