মো. জাহিদুল ইসলাম
দৃষ্টিপাত
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজন প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তির খোঁজ করে চলেছেন। তাদের নিত্যনতুন আবিষ্কারে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে আমাদের জগত। প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব, বদলে যাচ্ছে গতানুগতিকতা, বিবর্তন ঘটছে মানুষের জীবনধারায়। মানুষের জীবন সহজ, আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে প্রযুক্তি অবদান রাখছে বড়মাত্রায়। জীবনের মুখ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি।
প্রযুক্তি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। এটি উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকে সহজতর করে জাতীয় সীমানা পেরিয়ে পুঁজি ও ধারণার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামীতে স্মার্ট শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। আধুনিক যুগে নতুন শিল্প সৃষ্টি, উৎপাদন খরচ হ্রাস, এবং বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রযুক্তি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। ইন্টারনেট, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির কল্যাণে ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর কোনো বাধা নয়। যে কোনো দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোগও এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অর্থনীতির কারণে সফটওয়্যার, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং ই-কমার্সের মতো বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একে অপরের পরিপূরক। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্প সৃষ্টি এবং ব্যবসার খরচ কমিয়ে অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়েছে। এটি মানুষের শারীরিক শ্রমের পাশাপাশি সময় ও খরচ কমিয়ে গুণগত মান উন্নত করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি সবচেয়ে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, এবং অটোমেশন উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে। প্রতিটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অপরিহার্য।
বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে অনেক কাজ একসঙ্গে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে বিশ্বের অগ্রগামী জাতিসমূহ। তারা সর্বদাই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেই। এজন্যই পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনবল তৈরি, দূরদর্শী নেতৃত্ব, তরুণদের অংশগ্রহণ ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় প্রাধান্যের ভিত্তিতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে যেসব মানুষ পারদর্শী ও পেশাদার, তাদের কদর পৃথিবীব্যাপী বেড়েই চলেছে। তাই পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।
প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে স্মার্ট ইকোনমির ধারণা বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে তথ্যপ্রযুক্তি এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানবসম্পদ ছাড়া কোনো দেশই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারে না। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনে খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গ্লোবাল বা ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সমৃদ্ধশালী ও উন্নত অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
"





































