গৌরনদী (বরিশাল) ও ভোলা প্রতিনিধি

  ২৪ জুন, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় গৌরনদীতে প্রবাসী ও ভোলায় ট্রাকচালক নিহত

বরিশাল ও ভোলায় পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কুয়েতপ্রবাসী এক যুবক ও বালুবাহী ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে দেশে এসে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকির, আর ঝুঁকিপূর্ণ একটি আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে মারা গেছেন ট্রাকচালক মো. নাইম। পৃথক এ দুই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বন্ধুর বিয়েতে এসে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকির (২৪)। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুরের বটতলা নামক এলাকায়। নিহত কুয়েতপ্রবাসী সোহেল খাঞ্জাপুর গ্রামের সামু ফকিরের ছেলে। নিহতের ঘনিষ্ঠজন পান্নু মৃধা জানিয়েছেন, খাঞ্জাপুর গ্রামের খলিল হাওলাদারের ছেলে সোহেলের বাল্যবন্ধু ফরসাল হাওলাদারের গত ১৯ জুন বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য গত ১০ দিন পূর্বে সোহেল কুয়েত থেকে ছুটিতে দেশে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পান্নু মৃধা আরো জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে সোহেল মোটরসাইকেল পাকিং করে বটতলা এলাকার মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বেপরোয়াগতির তাজবি পরিবহন দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রমকালে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে সোহেল গুরুত্বর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মুহূর্তের মধ্যে সোহেল ফকির নিহতের খবর ছড়িয়ে পরলে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর পূর্বে ছুটিতে বাড়িতে এসে সোহেল ফকির বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মোহসিন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের গোপালপুর এলাকায় ঘাতক পরিবহনটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ভোলার লালমোহনে বালুভর্তি ট্রাক আয়রন ব্রিজ দিয়ে পারাপারের সময় ব্রিজ ভেঙে ট্রাকের চালক মো. নাইম (২৫) নিহত হয়েছেন। নিহত নাঈম ধলীগৌর নগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামের সালাউদ্দিন মাস্টারবাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ট্রাকের হেলপার মো. আল আমিন। উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নেরম ৮নং ওয়ার্ডের আজহার রোডের পূর্ব মাথায় বেতুয়া খালের উপরের ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. শাহে আলম জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২.৪০ মিনিটে বালুভর্তি ট্রাকটি ব্রিজের পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে যাওয়ার শেষ মাথার আগে হঠাৎ খুব জোরে শব্দ শুনতে পাই। শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বালুভর্তি ট্রাকটি ব্রিজ ভেঙে খালের পানিতে পড়ে গেছে। আমরা চিৎকার করলে স্থানীয় অনেক লোকজন আসে। আমরা সবাই দ্রুত ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে উদ্ধার করে লালমোহন হাসপাতালে প্রেরণ করি। লালমোহন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত মো. আল আমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি দেখে লালমোহন হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন।

স্থানীয় চৌকিদার মো. মহিউদ্দিন মার্শাল, মো. ইব্রাহিম, মাকসুদসহ আরো অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্য়কর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়