নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে শিশুমৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৯৬ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৩ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৮৯।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৯৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৬০।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৩ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৩৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৯ হাজার ৬৩৭ জন।
এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৫ হাজার ৮৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা ঢাকা বিভাগের।
হামের টিকা নিয়ে গাফিলতি আছে : প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হামের টিকা কেনা নিয়ে গাফিলতি আছে, এটাতো আমরা বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই ২০২৪ সালের যে টিকার রাউন্ড, সেটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। ভ্যাকসিনে কোনও প্রকিউরমেন্ট হয়নি, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত প্রোডাক্ট প্রকিউরমেন্ট হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে। এ জন্য কোনও তদন্ত করার দরকার নাই। রবিবার (২১ জুন) পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ?‘৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে’ অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, না, এখানে তদন্তের কী আছে। আমরা জানি, অপারেশনাল প্ল্যান বাদ দিয়ে এটাকে ডিপিপিতে মাইগ্রেট করা হয়েছে। তখন হয়তো ধারণা করা হয়েছিল, ডিপিপিগুলোকে এপ্রুভ করতে এক মাস দেড় মাসের মধ্যে তারা এপ্রুভ করতে পারবে এবং টাকা এভেলেবল হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, এক বছরেও অনেক ডিপিপি আপনার প্রিপারেশন সম্ভব হয়নি এবং সেগুলোকে টেকনিক্যাল এপ্রুভাল, প্রজেক্ট তৈরি করা সেগুলো করতে পারেনি। যার ফলে, স্বাভাবিক ফান্ড ফ্লো ওপির মাধ্যমে হচ্ছিল, সেইটা বন্ধ হয়ে যায় এবং এই যে ঘাটতি, এই ঘাটতির বোঝা তো আমরা জাতি হিসেবে এখনও বহন করছি।
তিনি বলেন, আমাদের ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের বিভিন্ন প্রোডাক্টের বিভিন্ন জায়গাতে স্টক আউট। হ্যাঁ, সেগুলো আমরা কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ক্রয় করতে পারি সেগুলো নিয়ে আমাদের মন্ত্রীসহ সবাই কাজ করছি। মন্ত্রী কোপেনহেগেনে ইউনিসেফের যে সাপ্লাই ডিভিশনের হেডকোয়ার্টার সেখানে উনি যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য যাতে আমাদের অন্যান্য যে অ্যাসেনসিয়াল প্রোডাক্ট সেগুলো আমরা দ্রুততম সময় যেগুলো ঘাটতি আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো ক্রয় করা যায় এবং ঘাটতি পূরণ করা যায়। এ জন্য আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি এবং কাজ করছি।
"





































