মেহেরপুর ও কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
দুই সীমান্তে নারী-শিশু পুশইনের চেষ্টা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা আলীনগর ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে ৬ নারী ও এক শিশুকে ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সহড়াতলা সীমান্তে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১৪২/৫-এস সাব-পিলারের কাছে শূন্যরেখা এলাকায় একজন নারী ও ছয়জন পুরুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে- এমন খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত সেখানে অবস্থান নেয়। একইসঙ্গে স্থানীয়রাও সতর্ক হয়ে ওঠে। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
গ্রামবাসীদের দাবি, গভীর রাতে ভারতের অভ্যন্তর থেকে ওই ব্যক্তিদের কাঁটাতারের নিকটবর্তী এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে তারা সীমান্তে ঘোরাফেরা করতে থাকলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান বলেন, ‘ওদের সীমান্তে দেখতে পেয়ে আমরা বিজিবিকে জানাই। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি।’ এ বিষয়ে বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিএসএফ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। সীমান্তে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি জানান, সীমান্তে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, একই সীমান্ত এলাকায় কয়েক দিন আগেও বাংলাভাষী কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেবারও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে সীমান্তে পুশইনের পুনরাবৃত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে একইদিনে ভোর ৪টার দিকে আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তাদের পুশইন করা হয় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। তবে আটকদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে এক শিশুসহ ৭ নারী বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
"





































