বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোল বন্দরে পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি
দুই মামলায় ২৪ জন আসামি সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানিকৃত পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরো দুই মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুই মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি ও আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো কয়েকটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
একই ঘটনায় এর আগে সাত কোটি টাকার আমদানিপণ্য পাচারের অভিযোগে আরো একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ফলে এক সপ্তাহে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ৭ জুন ভারত থেকে ৩২৬ কার্টুন কালার পেন্সিল, ওয়াটার কালার পেন্সিল ও ইরেজার (রাবার) আমদানির একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। ভারতের কোহিনুর এক্সপোর্টের রপ্তানি করা পণ্য চালানের আমদানিকারক যশোরের শার্শার টিএস ইন্টারন্যাশনাল। আমদানিকৃত বৈধ পণ্যচালানের সঙ্গে অবৈধ অতিরিক্ত ৫০ কার্টুন উচ্চশুল্ককর ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রাজস্ব ফাঁকি দিতে ঘোষণা বহির্ভূত ৩০ কার্টুন উচ্চমূল্যের বিভিন্ন দামি শাড়ি ও ২০ কার্টুন ফেসওয়াস আনা হয়। আমদানিপণ্যের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে আসার তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর পরেই পণ্য আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, ১২ মার্চ ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি চালানে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো আটক করে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়। কাস্টমস চালানটি আটক করে বন্দরের হেফাজতে রাখলেও পরে শেড ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে কোরবানি ঈদের ছুটিতে বন্দরের জিম্মায় রাখা সেই চালান থেকেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে রাখা হয়েছে অতি নিমমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিসসহ অন্যসামগ্রী। এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিজেদের দোষ ঢাকতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তরিঘরি করে শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এ ছাড়া বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তারা কাজ শুরু করেছেন।
এর আগে ঢাকার ‘নুসরাত ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত একটি চালান ‘সিনথেটিকস ফেব্রিক্স অ্যান্ড লেস’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। চালানটির সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বেনাপোলের ‘খাজা এন্টারপ্রাইজ’। পণ্য চালানটি ৩১ মার্চ বন্দরে প্রবেশ করে।
"





































