নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৫ ঘণ্টা আগে

শিল্প খাতে অগ্রগতির জন্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

বাংলাদেশের শিল্প খাত দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। জাপানের শিল্পোন্নয়নের পেছনে টয়োটা উৎপাদন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্প খাতেও এ ধরনের পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগ সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ এওটিএস অ্যালামনাই সোসাইটির (বিএএএস) সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ-জাপান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিজেটিআই) উপদেষ্টা এ এম এম খায়রুল বাশার।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাপানের ডব্লিউএনএফের সহযোগিতায় আয়োজিত রাজধানীর বাংলামোটরে নাসির ট্রেড সেন্টারের ১৪ তলায় অবস্থিত এইচপিএল ব্লু ওশান মিলনায়তনে দেশের শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, অপচয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা চর্চা বিস্তারের লক্ষে টয়োটা উৎপাদন পদ্ধতিবিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিজেটিআই উপদেষ্টা এ এম এম খায়রুল বাশার এ কথা বলেন।

খায়রুল বাশার বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টয়োটা উৎপাদন পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে পরীক্ষিত ও সফল একটি ব্যবস্থাপনা দর্শন, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মানোন্নয়ন এবং অপচয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মূল প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার শিল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ সি বি কনিশকা পেরেরা। তিনি দুই দিনের প্রশিক্ষণে টয়োটা উৎপাদন পদ্ধতির মৌলিক দর্শন, সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা, ধারাবাহিক উন্নয়ন পদ্ধতি, কর্মস্থল সুশৃঙ্খল রাখার পাঁচ ধাপ, সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অপচয় শনাক্ত ও হ্রাস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ এবং ব্যাবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন। এর ফলে তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবেন।

এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪২ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- বিকন, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস, এক্সক্লুসিভ, সিলকেন সুইং, উর্মি গ্রুপ ও মজুমদার গ্রুপসহ আরো কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, উৎপাদন, প্রকৌশল ও সেবা খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএএএসের জ্যেষ্ঠ সদস্য এ এন এম শাহজাহান, সৈয়দ আহসানুল আপন, সৌমিত্র কে. মুতসুদ্দি এবং সংগঠনটির মহাসচিব শেখ নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

বক্তারা বলেন, শিল্প খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করতে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরো বলেন, জাপানের শিল্পোন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো শৃঙ্খলাবদ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থা, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের সংস্কৃতি। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্প খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, পণ্যের গুণগত মান বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়