সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
তাড়াশে ঋণ পরিশোধের পরও গ্যারান্টারের বিরদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সিরাজগঞ্জের তাড়শ উপজেলায় ঋণের দায় পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও এক গ্যারান্টারের বিরুদ্ধ মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অভিযোগ উঠেছে। মামলার কারণে গ্যারান্টার বর্তমানে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ পৌরসভার জাহাঙ্গীরগাঁতী মহল্লার মৃত কেতাব আলীর ছেলে মাছচাষী দেলোয়ার হোসেন প্রায় ছয় বছর আগে পাশ্ববর্তী মাধাইনগর ইউনিয়নের সুভার গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে মোতাহার হোসেন ওরফে মোতাহার মাষ্টারের কাছ থেকে মাসিক ৫ শতাংশ সুদে ২০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে তিনি স্বাক্ষর করা একটি ব্যাংক চেক ও সাদা স্ট্যাম্প জমা দেন। একই সঙ্গে তার নিকটাত্মীয় মাদারজানি গ্রামের মৃত জেনাত আলীর ছেলে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান গ্যারান্টার হিসেবে স্বাক্ষর করা ব্যাংক চেক ও সাদা স্ট্যাম্প প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ঋণ গ্রহণের ছয় মাস পর দেলোয়ার হোসেন চার লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে সুদসহ পাওনার পরিমাণ আঠারো লাখ টাকায় দাঁড়ায়। মোতাহার মাষ্টার ঋণ আদায়ে খর্গহস্ত হলে তারই শর্ত মোতাবেক দেলোয়ার হোসেন প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি ৫০ শতাংশ জলাবিশিষ্ট পুকুর সুভার গ্রামের শহীদুল ইসলামের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ঋণের দায় পরিশোধ করা হলেও জামানত হিসেবে রাখা চেক ও স্ট্যাম্প মোতাহার মাষ্টার কৌশলে আটকে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকদিন পর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মোতাহার মাষ্টার একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। এতে নির্দোষ দেলোয়ার হোসেন কারাভোগ করতে থাকেন। পরে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি আরো ৩০ লাখ টাকা দিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়। এরপরও গ্যারান্টার হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর করা ব্যাংক চেক ব্যবহার করে মোতাহার মাষ্টার তার বিরুদ্ধে ২৬ লাখ টাকার আরেকটি মামলা ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এবিষয়ে মোতাহার হোসেন জানান, মাদারজানি গ্রামের হাবিবুর রহমান আমার কাছ থেকে ২০১৮ সালে ৬ বিঘা জমি বিক্রীর কথা বলে ২৬ লক্ষ টাকা নেন। পরবর্তীতে জমি না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য আমাকে ২৬ লক্ষ টাকার একটি চেক দেন। সেই চেক ব্যংকে জমা দিলে ডিজঅর্নার হয়। পরবর্তীতে তাকে বিষয়টি জানালে সে আর টাকা দেয়নি। আমি বাধ্য হয়ে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য হই। ইতিমধ্যেই মামলার রায় হয়েছে এতে টাকা ফেরৎসহ তার ১ বছরের জেল হয়েছে বলে তিনি জানান।
পিডিএস/এমএইউ









































