শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি

  ৪ ঘণ্টা আগে

যশোরের শার্শা

বিএনপি নেতাকে ধরতে স্থানীয়দের বাধা, গ্রেপ্তার অভিযান ব্যাহত

যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের মামলায় বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দলটির মধ্যে নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে গ্রেপ্তার অভিযান ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা ও আইনজীবী মোস্তফা কামাল মিন্টু দাবি করেছেন, কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাকে আটক ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রামবাসীর বাধার মুখে রক্ষা পান তিনি। তবে পুলিশের অভিযোগ একটি মামলার আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলকালে তার লোকজন বাধা দেয়।

মোস্তফা কামাল মিন্টু আইনজীবীর পাশাপাশি শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। গত ৪ জুন রাতে শার্শার শ্যামলাগাছি গেটে এ ঘটনা ঘটে।

আইনজীবী মিন্টু জানান, গত ২৯ মে শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলসহ কয়েকজনকে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী কয়েকজন মারধর করেন। এ ঘটনায় ওইদিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়। তবে জিডিতে আমার নাম উল্লেখ না থাকলেও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও শার্শা থানা পুলিশ গ্রেপ্তরের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আশপাশের লোক ছুটে এলে জনরোষে পড়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এ সময় তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। তিনি জুয়েলের মারধরের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন না। তিনি আরো বলেন, সামনে উপজেলা নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী এছাড়া আইনজীবী পেশার কারণে অনেকেই শত্রু হয়ে পড়েছে। যেসব কারণে প্রতিপক্ষরা আমাকে বিতর্কে ফেলতে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানি করছে। কোনো অভিযুক্ত না হয়েও কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ছাড়াই শত্রুপক্ষের মদদে পুলিশ ধরতে এসেছিল। এছাড়া তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে দেখেছেন শার্শা থানায় তার নামে কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি জেলা বিএনপি নেতাদের অবগত করা হয়েছে।

এদিকে মামুন হাসান জুয়েলের স্বজন কনেদাহ গ্রামের আব্দুল বারিক জানান, জুয়েলের বাবার বালি দখল করে নেয় বিএনপির নেতারা। প্রতিবাদ করতে গিয়ে জুয়েল বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছেন।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে একটা তদন্ত কমিটি করে সত্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে। যেকোনো অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে আমাদের দল এখন জিরো টলারেন্স ভূমিকায়। যদি এখানে কারো বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মেলে তবে দল তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এসব বিষয়ে যশোরের নাভারণ সার্কেল এএসপি আরিফ হোসেন জানান, মারধরের শিকার মামুন হাসান জুয়েল একজন পুলিশ সদস্য। ছুটিতে সে বাড়িতে আসলে পূর্ব শত্রুতায় তাকে ও তার স্বজনদের মারধর করে কয়েকজন। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল মিন্টু প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার লোকজন বাধা দেয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে ফিরে এসেছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়